দখল-দূষণে ধুঁকছে ঠাকুরানী খাল, উদ্ধার কি এবার বাস্তবে, নাকি কেবলই গল্প?

মো: হাছিব সরদার, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

এক সময় পণ্যবাহী নৌকার চলাচলে সরগরম ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরানী খাল। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান এই খাল

2026-03-09T14:05:31+00:00
2026-03-09T14:05:31+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
দখল-দূষণে ধুঁকছে ঠাকুরানী খাল, উদ্ধার কি এবার বাস্তবে, নাকি কেবলই গল্প?
মো: হাছিব সরদার, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২:০৫ পিএম 
এক সময় পণ্যবাহী নৌকার চলাচলে সরগরম ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরানী খাল। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান এই খাল এখন দখল ও দূষণের চাপে প্রায় মৃত। কোথাও খাল সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব।

সরকারি নথি অনুযায়ী খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কিন্তু বাস্তবে এর বড় একটি অংশ এখন জবরদখলের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে গেছে।

 ভূমি অফিসের নথিতে অন্তত ৩১ জন দখলদারের নাম রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের জোরে অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে খালের ওপর দোকানপাটসহ স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছেন।

খাল দখলের ফলে মোংলা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা জনজীবনকে করে তুলছে দুর্বিষহ।

মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি নূর আলম শেখ বলেন, অতীতেও একাধিকবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে খালটি বিলীন হওয়ার পথে।

তবে এবার কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। খাল খনন ও উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মোংলার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, খালের নথিপত্র যাচাই এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামও বলেছেন, জলাধার রক্ষায় কোনো প্রভাবশালীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল উদ্ধারের উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করে ঠাকুরানী খালের হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনা এখন মোংলাবাসীর অন্যতম দাবি। প্রশ্ন এখন একটাই—এবার কি সত্যিই মুক্তি পাবে ঠাকুরানী খাল, নাকি আগের মতো এই আশ্বাসও শেষ পর্যন্ত কেবল গল্প হয়েই থেকে যাবে? 


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: