ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জীবনগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর কয়েকটি পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা পাটাতনের কারণে প্রায়ই যানবাহনের চাকা আটকে যায়। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাত্রীরা আহতও হচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজরদারি বা দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
প্রতিদিন নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য সেতুটি ব্যবহার করেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি, মালবাহী ভ্যান ও ছোট ট্রাকসহ শত শত যানবাহন প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। ফলে সেতুটির গুরুত্ব অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক খাদেম আলী বলেন, “সেতুটি দ্রুত মেরামত না করা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
সিএনজি চালক মো. মহিউদ্দিন বলেন, “আমি প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলাচল করি। সেতুটি ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক।”
শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে স্কুলে যাই। কখনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এই ভয় সবসময় কাজ করে।”
দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, “সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জীবনঝুঁকি নিয়ে এটি পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি।”
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুব হোসেন বলেন, “সেতুটি সংস্কারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”