গত ৫ বছরে বিশ্বে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যাপকভাবে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখনও বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থার ঘাটতির কারণে ইউরোপের দেশগুলো সামরিক শক্তি জোরদারে ব্যাপক হারে অস্ত্র আমদানি বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১–২০২৫ সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি ২০১৬–২০২০ সময়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইউক্রেনকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সহায়তা দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগের পর নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ।
এসআইপিআরআইয়ের অস্ত্র স্থানান্তর কর্মসূচির পরিচালক ম্যাথিউ জর্জ বলেন, ইউরোপে অস্ত্র সরবরাহের দ্রুত বৃদ্ধি বৈশ্বিক অস্ত্র স্থানান্তর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে মোট অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশই ইউরোপের দেশগুলোর দখলে, যেখানে আগের পাঁচ বছরের সময়ে এ হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।
নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়ালেও ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র :
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি সামগ্রিকভাবে ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে সৌদি আরব ও কাতার এখনও বিশ্বের শীর্ষ চার অস্ত্র আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে।
এসআইপিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক পিটার ওয়েজম্যান বলেন, আগের সময়ে সৌদি আরব যেসব বড় অস্ত্র অর্ডার দিয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখনও পুরোপুরি ব্যবস্থায় যুক্ত হয়নি। ফলে আপাতদৃষ্টিতে আমদানির পরিমাণ কম বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নতুন করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্রের অর্ডার দিয়েছে, যা এখনও পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে অস্ত্র কেনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশগুলো বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
ওয়েজম্যান বলেন, দেশগুলো আগে ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করবে এবং নিজেদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন সামরিক সরঞ্জাম কেনার দিকে নজর দেবে।
অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র তার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে। বর্তমানে বিশ্বে মোট অস্ত্র রপ্তানির ৪২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে, যা আগে ছিল ৩৬ শতাংশ।
রপ্তানির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যার বৈশ্বিক অংশ ৯.৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২১ শতাংশ থেকে ৬.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
সব মিলিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্মিলিত অস্ত্র রপ্তানির অংশ এখন ২৮ শতাংশ, যা রাশিয়ার প্রায় চার গুণ এবং চীনের প্রায় পাঁচ গুণ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স