জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখার সুভাগ্যে হয়নি তাঁর। দু’নয়ন মেলে দেখা হয়নি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও নিকট আত্মীয় এবং গ্রামবাসীদের। পৃথিবীর আলো দেখার সুভাগ্য তাঁর না হলেও পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত করেছেন নিজেকে। আল্লাহর রহমত ও তাঁর অদম্য প্রচেষ্টায় তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগ থেকে মাওলানা হাফেজ আব্দুল ওয়াদুদ এর তত্ত্বাবধানে পবিত্র কোরআন শরীফ হেফজ করেছেন। তিনি বারবার পড়া বাতলিয়ে (শুনিয়ে) দিয়ে দৃষ্টিহীন নাছিরকে পবিত্র কোরআন শরীফ হেফজ করার সুব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন ও এবং সফলও হয়েছেন।
তাঁর পিতা আব্দুর রশিদ ও মাতা জফুরা বেগম এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন অনেক আগেই। তাঁর বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ২ নম্বর উজিরপুর ইউনিয়নের (ইলাশপুর) গ্রামে। স্ত্রী, ২ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। বাড়ির পার্শ্বে দারুল হুদা জামে মসজিদে নামাজ পড়িয়ে মাসে প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করেন। সরকারীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন মাসে ৯০০ টাকা। সামান্য কিছু জমি থাকলেও এ আয় দিয়ে বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছেন। বড় ছেলে মো. ছাব্বির হোসেন সামুকসার দারুল হুদা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষার্থী, ছোট ছেলে মো. তানভীর ইসলাম দাতামা জামেয়া ইসলামিয়া আহলিয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে ও একমাত্র মেয়ে ফাতেমা আক্তার হালিমা স্থানীয় সোলাইমানিয়া তাহফিজুল কোরআল নূরানী মাদ্রাসায় ২য় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর পিতা আব্দুর রশিদ বেঁচে থাকতে তাঁর বড় ছেলে নাছিরের অন্ধত্ব মোচনে চিকিৎসার জন্য নিজের জমিজমা বিক্রি করেও অনেক টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কোন সুফল পাননি। হাফেজ নাছির উদ্দিন তাঁর উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় হাত বাড়ানোর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। আসুন পবিত্র মাহে রমজানের এই মোবারক মুহুত্বে আমরা সকলে তাঁর পাশে দাড়াই। তাঁকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেই যার যার সাধ্যমতো। যার চোখের আলো নেই সেই বুঝতে পারে তাঁর অনুভূতিটা কি। আমাদের যাদের দুটি চোখ আছে তাদের বুঝার সক্ষমতা নেই। কি অমূল্য সম্পদ আল্লাহপাক আমাদেরকে দান করেছেন। তাঁকে সহায়তার জন্য নিম্নের বিকাশ/নগদ পারসোনাল নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। ০১৬৪২-৭৪০৫৬৯।