বগুড়ার নন্দীগ্রামে হত্যা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল-ছাত্রদলের ৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পৌর ছাত্রদল সভাপতি পালনসহ নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ছাত্রদলের সাময়িক বহিষ্কার নোটিশ ঘিরে সমালোচনা চলছে। অনেকের মন্তব্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও সাময়িক শব্দটি রহস্যজনক। বহিষ্কৃতদের আবারও পদে ফেরানোর কৌশল।
নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলকে ছুরিকাঘাত এবং ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী মিলন রহমানকে হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা হলেও আসামিরা অধরা। ঘটনার বেশ-কয়েকদিন পর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল যুবদল ও ছাত্রদল।
গতকাল শুক্রবার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদল সিনিয়র সহ সভাপতি নবীর শেখ, পৌর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন, দপ্তর সম্পাদক সাজু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক সুজন মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল শাকিল, মো. আসিফ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদেরকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান ও সাধারণ সম্পাদক এমআর হাসান পলাশ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা যুবদল জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. বুলবুল এবং বুড়ইল ইউনিয়ন যুবদল সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাককে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃতের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা। তাদের সঙ্গে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল গ্রামের জামে মসজিদের সামনে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী মিলন রহমান (১৬) বুড়ইল গ্রামের দিলবর রহমানের ছেলে। গত ১ মার্চ নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিলের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার দুইদিন পর ৩ মার্চ পৌর ছাত্রদল সভাপতি পুলিশসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান।