বিগত সরকার ঢালাওভাবে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, সেটির ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি কর্পোরেশন কলাপস করবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগের যেসব টেন্ডার ওয়ার্ক অর্ডার তারা দিয়েছে, আমি বলেছি সেগুলো আমাদের ইমার্জেন্সি দরকার, ইমিডিয়েট দরকার। সেগুলো আমি দেখে তারপরে সেগুলোর ব্যবস্থা নেব। এর আগে ঢালাওভাবে তারা যেসব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে, সেটার ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি কর্পোরেশন কলাপস করবে। কোনোভাবে সেটা করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা ইমিডিয়েটলি কি কি করতে চাই, আবার দীর্ঘ সময় কি কি দরকার, সেই বিষয় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে তিনি সময় দিয়েছেন। আমরা বিভিন্ন সমস্যাগুলো বলেছি।
মো. আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে কর্পোরেশনগুলোর যে অবস্থা করা হয়েছে, আমাদের রাজস্ব বাজেটের যে অবস্থা অর্থাৎ এটা বলা চলে যে, আগামীতে যদি রাজস্ব বাজেটের উপর ভর করে আমরা বেতন দিতে যাই, তাহলে বেতন দিতে পারবো না। বেতনের টাকা নেই। তারা এমনভাবে সব শূন্য করে দিয়ে গেছে এবং তারপরে আরো যেটা করেছে, তারা প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার অ্যাডভান্স ওয়ার্ক অর্ডার পর্যন্ত দিয়ে গেছে। সেই টাকাটা কোথা থেকে আসবে?
প্রশাসক বলেন, ৪৭০ কোটি টাকার কাজের বিল দিয়ে গেছে। সেই টাকা নেই। নির্বাচন ছিল, আগে আন্দোলন ছিল, গত কয়েক মাসে তো রাজস্ব খাতে যেভাবে কালেকশন, মানে কথা টাকা পয়সা যেভাবে আসার সেই অনুপাতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম হয়েছে। যেটা হয়তো আমরা সামনে করতে পারব। আমরা ওনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বরাদ্দ চেয়েছি, যাতে সিটি কর্পোরেশন চালানোর জন্য আমাদের সুবিধা হয়। প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজায়ন ঢাকা এবং মশা, এই তিনটি বিষয়ের উপরে জোর দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে যেহেতু বর্ষা আসছে এবং সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। এই কারণে মশাকে যেকোনোভাবেই হোক মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি এবং আমি ঢাকা শহরের দক্ষিণে এক মাসের জন্য একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম দিয়েছি, যেটা মশক নিধন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। কারণ দুটিই রিলেটেড। এই দুইটা আমরা দিয়েছি।