খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। গত মাত্র চার দিনে চারজন খুনের ঘটনায় নগরজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গত ১৫ দিনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গুলি, কুপিয়ে হত্যা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বিরকে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।
সহিংসতার শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন নগরীর আফিল গেট এলাকায় শেখ সোহেল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত সোহেল চরমপন্থি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এর ঠিক একদিন পর, বাজারের ইজারার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা খান মুরাদকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সহিংসতা থামেনি সেখানেই। গত ১ মার্চ রাতে বাগমারা জাহিদুর রহমান সড়কে আজিজ (৩৫) নামে এক যুবককে মোটরসাইকেলে এসে গুলি ও পরে কুপিয়ে ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা; চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, তেরখাদায় সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণে দগ্ধ আল মামুন নামে এক ব্যক্তিও মারা গেছেন। এছাড়া লবনচরা ও দৌলতপুরে পৃথক হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। যদিও পুলিশ দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমছে না।