পূর্বধলায় সড়কে বেড়া দিয়ে নির্মাণে বাধা, ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাকাকরণ কাজে ১০ মিটার জায়গার বেড়া দিয়ে দিয়ে

2026-03-03T15:26:27+00:00
2026-03-03T15:26:27+00:00
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
পূর্বধলায় সড়কে বেড়া দিয়ে নির্মাণে বাধা, ভোগান্তিতে কয়েক গ্রামের মানুষ
পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম 
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাকাকরণ কাজে ১০ মিটার জায়গার বেড়া দিয়ে দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ার কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায়, চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নারান্দিয়া ইউনিয়ন পাইলাটি গ্রামের ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির ২৭০০ মিটার পাকাকরণের কাজ বর্তমানে চলমান ছিল, রাস্তার বাকি অংশ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’ মূল কাজটি পেয়েও স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়ার তদারকিতে কাজটি চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গণকাপাড়া এলাকায়  নির্মানাধীন রাস্তায় বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে রেখেছেন। 

জানা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গণকাপাড়া এলাকায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেন মৃত ইমান আলীর তিন ছেলে- মুমরুজ আলী, মফিজ মিয়া ও মজিবর মিয়া। তারা তাদের মালিকানাধীন মাত্র ১০ মিটার জায়গা দিয়ে রাস্তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখানে বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে বাঁধার তৈরী করেছেন। এর ফলে রাস্তার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তাটি চানখলা, বাইক গণকাপাড়া, ভূগী, পাইলাটি, ইয়ারন ও নারান্দিয়া সহ আশেপাশের ৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রবেশের জন্য এটিই সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। রাস্তার পাশেই রয়েছে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পাকা করার আগে এই অংশ দিয়েই মাটির রাস্তা ছিল। রাস্তার স্বার্থে আমাদের অনেকের জায়গা গেছে, আমরা বাধা দেইনি। কিন্তু সামান্য ১০ মিটার জায়গার জন্য মুমরুজ আলীরা পুরো উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

এ বিষয়ে রাস্তায় বাধা দেওয়া মুমরুজ আলী জানান, "পাশেই হালটের জায়গা থাকা সত্ত্বেও আমার রেকর্ডকৃত জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল, এজন্য আমি বাধা প্রদান করেছি।"

তদারককারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের ঠিকাদার লিটন মিয়া জানান, এলজিআরডি অফিসের সার্ভে চলাকালীন তিনি ছিলেন এবং পূর্বে মাটির পথের ওপরেই কাজ করছিলেন। প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তায় কাজের সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। তিনি বেড তৈরি ও বালু ফিটিংসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় ভেড়া ও গাছের গুড়ি দিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

লিটন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার নামে একটি ভূয়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুমরুজ আলী কোর্টে মামলা করেছেন যে, লিটন মিয়া জোরপূর্বক তার বাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করছেন। পুলিশ ও কোর্টের সার্ভেয়ার তদন্ত করেছেন এবং দেখা গেছে, জায়গা ও রাস্তার কাজ উভয়ই সঠিক আছে। লিটন মিয়া অভিযোগ করেন, তারা রীতিমতো চাঁদাবাজি করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত জানান, "গ্রামীণ রাস্তার নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ চলবে। কেউ কোনো অংশে বাধা প্রদান করলে, সেই অংশ বাদ দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।"


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: