বরগুনার আমতলীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মো. মনিরুল ইসলাম, মিরাজ ও মেহেদী হাসান এক অটোচালককে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। স্থানীয় জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে মিরাজকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ঘটনা ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে।
জানাগেছে, উপজেলার আমতলী পৌর শহরের মনিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের নামে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। রবিবার বিকেলে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের অটো চালক কবির হাওলাদার যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজার যাচ্ছিল। পিছন দিক থেকে একটি মোটর সাইকেলে তারা তিনজনে অটো গাড়ির গতিরোধ করে এবং যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে অটোচালক কবির হাওলাদারকে গাঁজার ব্যাবসা কর বলে মারধর করে। এক পর্যায় তারা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অটো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা অটোচালক কবিরকে মারধরের প্রতিবাদ করে। এতে তাদের ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় অটোচালক ও স্থানীয়রা কথিত সাংবাদিকদের গণ ধোলাই দেয়।
গণধোলাই খেয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান পালিয়ে যায় এবং মিরাজ সিকদারকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত মনিরুল ইসলাম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সংসদ মওলানা মো. মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ, আমতলী থানার ওসিকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংসদের আদেশ অমান্য করে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করে আটককৃত চাঁদাবাজ মিরাজ সিকদারকে ছেড়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোচালক কবির হাওলাদারের স্ত্রী মোসা. মামনি বেগম বলেন, আমতলী থানার ওসি স্যারে মামলা নেবেনা, উকিলেরা মামলা লিখবে না। পরে ওসি স্যারে মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছেন। এতে আপনার কি খুশি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ কি করব? আমরা সাধারণ মানুষ দিন আনি দিন খাই। কথিত সাংবাদিক মো. মনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, মনিরুল ইসলামকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। পক্ষদ্বয় মীমাংসা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি কাউকে আটকও করছি আর কাউকে ছেড়েও দেয়নি।
বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মো. মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ বলেন, আমতলী থানার ওসিকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আপনার আদেশ অমান্য করে ওসি আটককৃত মিরাজ সিকদারকে ছেড়ে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি দেখবো।