বগুড়ায় সীমানা প্রাচীর দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা ও ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা খুন হয়েছেন। নিহত হাফেজ মওলানা সাইফুল ইসলাম (৪১) হলেন শহরের খান্দার মহল্লার নওশের আলীর ছেলে। হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল সোমবার তাদেরকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে, রোববার রাতে শহরের ঠনঠনিয়া মৌজার মাহবুব নগর শাহী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল শহর জামায়াতে ইসলামির রুকন ও দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন।
গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ এটিসি জানান, নির্মাণ কাজের সময় চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দুপক্ষের বাগ্বিতণ্ডা একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের একজন ছুরিকাঘাত করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ বিক্রম (৩২) ও তার মা বেবী খাতুন (৫২)। তারা ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। ভোরে ধুনট উপজেলার মোহনপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করে র্যাব। এদিকে ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ায় পৃথক অভিযানে মামলার ৩ নম্বর আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিষয় উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ঘটনার আগে ভিকটিম সাইফুল নিজের ক্রয়কৃত জমিতে চারজন রাজমিস্ত্রি নিয়ে যান। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় বাঁধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষরা। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইফুলের ওপর হামলা ও তার মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের তলপেটে ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত ইয়ার মোহাম্মদ বিক্রম। রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।