পলাশবাড়ী পৌর শহরের আমবাড়ী রাস্তায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে প্রায় ৩৫০টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক ব্যবহার করে এই গাছ নিধন করা হলেও তা ঠেকাতে কোনো কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি কোনো গোপন অভিযানের মতো নয়— বরং জনসম্মুখে, দিনের আলোতেই একের পর এক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এরপরও পৌর প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— এত বড় একটি পরিবেশগত অপরাধ কীভাবে নির্বিঘ্নে সংঘটিত হলো?
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাটা গাছগুলো সরিয়ে নিতে দ্রুতগতির যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া সরকারি বা পৌর এলাকার গাছ এভাবে কাটা হলে তা সরাসরি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বনসম্পদ রক্ষা নীতিমালার লঙ্ঘন। তবু এখন পর্যন্ত কোনো মামলা, জব্দ বা তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে এতসংখ্যক গাছ নিধনের ফলে এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকি বাড়বে। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, অনুমতিপত্র যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক নীরবতা জনমনে সন্দেহ আরও গভীর করছে—এই গাছ নিধনের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় পরিবেশ ধ্বংসের এই নজির ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।