ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান সরকার। রবিবার (১ মার্চ) সকালে সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করে।
নিহত আলী শামখানি ছিলেন ইরানের নীতি নির্ধারণী পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং দেশটির প্রতিরক্ষা পর্ষদের সেক্রেটারি। দীর্ঘকাল ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই তিনি দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আইআরজিসি-র বর্তমান প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও এই যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি গত ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তাঁর পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর এই শীর্ষ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কমান্ডার-ইন-চিফ হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসি-র স্থল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অধীনেই ইরানের স্থল শক্তি আধুনিক রূপ পেয়েছিল বলে মনে করা হয়। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।
বিবিসি ও আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি তাঁর প্রধান উপদেষ্টা ও সামরিক বাহিনীর প্রধানের মৃত্যুতে দেশটিতে এক নজিরবিহীন শূন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই শীর্ষ নেতাদের ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের স্মরণে শোক প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর ইরান থেকে আরও বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা ও ইরনা।