ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করেছে ‘প্রত্যাশা’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতারের পর নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তিকৃত রোগীদের অংশগ্রহণে এ কাউন্সিলিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. আরমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। নিরাময় কেন্দ্রের কাউন্সিলর ফেবিন রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন টিএনসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালক মো. ইকবাল, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া ও সুশান্ত পাল, নিরাময় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, পরামর্শক মো. তাকবীর হোসেন ও মো. শ্রাবণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম আহমেদ বলেন, মাদকাসক্তি কোনো ব্যক্তির জীবনের শেষ অধ্যায় নয়। সঠিক চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পারিবারিক সমর্থন পেলে একজন মাদকাসক্ত মানুষ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তদের প্রতি তাচ্ছিল্য নয়, বরং সহমর্মিতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে পুনর্বাসনের প্রধান হাতিয়ার। পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সমাপনী বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক মো. আরমান বলেন, জেলা প্রশাসকের মৌখিক নির্দেশনা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসানের পরামর্শক্রমে এই কাউন্সিলিং কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে প্রত্যাশা নিরাময় কেন্দ্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে রোগীদের মাঝে সচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।