লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রামগঞ্জ পৌর সুপার শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট ৫ বছরেও চালু হয়নি। ইতোমধ্যে মার্কেটের প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো আইনি জটিলতা না থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন কী চুরি হওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি পর্যন্ত হয়নি।
রামগঞ্জ পৌর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ) ও রামগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৬শত ৯৭ টাকা ব্যয়ে মার্কেটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ ২০১৯ সালে শুরু করে শেষ হয় ২০২১ সালে। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল মেসার্স মেঘনা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। মার্কেটের আয়তন ২৩০.৩২ বর্গমিটার। মোট দোকানের সংখ্যা ৩৪টি। ঠিকাদারের নিকট থেকে পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল খায়ের পাটোয়ারী ২০২১ সালে মার্কেটটি বুঝিয়ে নেন। একই সূত্রে আরো জানা যায়, ২০২৫ সালে জুন মাসে মার্কেটে দুর্ধর্ষ চুরি ঘটনা ঘটে। এ সময় চোরের দল মার্কেটের গ্রিল কেটে জেনারেটরসহ বৈদ্যুতিক সব সরঞ্জামাদি চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে থানা জিডি করা হয়নি।
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগঞ্জ জিয়া শপিং কমপ্লেক্স ও রামগঞ্জ মাছ ও কাঁচা বাজার মার্কেট সংলগ্ন স্থানে নির্মাণকৃত তিন তলা বিশিষ্ট এ মার্কেটের প্রধান গেটে তালা ঝুলছে। গেট জুড়ে হকারদের দোকানপাট। ভিতরে প্রবেশ করার সুযোগ নেই। দারোয়ান বা পৌরসভার কাউকে পাওয়া যায়নি। মার্কেটের চারপাশে লতাপাতা ঝোপঝাড়, জরাজীর্ণ অবস্থায় হয়ে পড়ে আছে।
এ সময় পৌরসভার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, কাশেমসহ কয়েকজন জানান, ঠিকাদার কাজ শেষ, মার্কেট বুঝিয়ে নিয়েছেন ৫ বছর হয়েছে। কিন্তু সাবেক মেয়র অদৃশ্য কারণে দোকান বরাদ্দ দেননি। ৫ আগস্টের পর বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষ একই অবস্থায় পেলে রেখেছেন। কেউই মার্কেট তত্ত্বাবধান বা দারোয়ান পর্যন্ত রাখেননি। পৌরসভার লোকজনের অবহেলায় কারণে চুরির ঘটনা ঘটেছে, লাখ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। বিশ্ব ব্যাংক থেকে লোন করা কোটি কোটি টাকা মার্কেটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা মার্কেটির দোকান বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত চালু করার দাবি জানান।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন হেলাল জানান, সাবেক মেয়র ২০২১ সালে মার্কেট বুঝিয়ে নেওয়ার পর মার্কেটির দোকান বরাদ্দ দেয়নি। মার্কেটে দারোয়ানও ছিল না। ২০২৫ সালে মার্কেটের গ্রিল কেটে জেনারেটরসহ বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি হয়েছে। বর্তমান প্রশাসক মার্কেটের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত শেষ করে, দোকান বরাদ্দ দিয়ে মার্কেটটি চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, দ্রুত মার্কেটটি চালু হবে।
রামগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল আলম সর্দার জানান, দুই তিন দিনের মধ্যে মার্কেটের সাইনবোর্ড দেওয়া হবে। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ও দোকান বরাদ্দ দিয়ে খুব শীঘ্রই মার্কেট উদ্ভোধন করা হবে।