পলাশবাড়ীতে ইউএনও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৭১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ক্রয় ও স্থাপনে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ

2026-02-26T18:59:08+00:00
2026-02-26T18:59:08+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
পলাশবাড়ীতে ইউএনও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৭১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ক্রয় ও স্থাপনে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদের বিরুদ্ধে। বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তব স্থাপনার মধ্যে বিস্তর অমিল থাকায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৪০টি বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২টিতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ৩টিতে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া, ৭১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বিদ্যালয় প্রতি ২০ হাজার টাকা করে কর্তন করা হয়। এতে কেবল বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, সরকারি বিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য সমবণ্টনের ভিত্তিতে মোট ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রতিটি কেন্দ্র পেয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার ৪০০ টাকা— যা বরাদ্দ ঘোষণার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বাজারে একটি স্মার্ট হোম ১০৮০ পিক্সেল সিসি ক্যামেরার গড় মূল্য প্রায় ৪ হাজার টাকা। অথচ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৩ থেকে ৫টি করে ক্যামেরা স্থাপন দেখানো হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রকৃত ব্যয় হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
কিন্তু সরেজমিনে পরিদর্শনে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, কোথাও ৩টি আবার কোথাও ৪টি করে নিম্নমানের ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ— অতিরিক্ত ব্যয়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

একাধিক শিক্ষক বলেন, “কাগজে যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো মিল নেই। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই অনিয়ম স্পষ্ট হবে।”
প্রশাসনিক ব্যাখ্যা, প্রশ্ন থেকেই যায়, এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আরজুমান আরা গোলেনুর স্বীকার করেন, ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বাকি অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “আমি জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন বাস্তবায়নের কাজ করেছি। প্রয়োজনে অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।” তবে এই বক্তব্যে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব বা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট জবাব মেলেনি।পলাশবাড়ীর সচেতন নাগরিকদের দাবি, ভোটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা বলছেন, স্বাধীন তদন্ত হলে ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে পড়বে।

তদন্ত সাপেক্ষে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা রংপুর বিভাগ-এর বিভাগীয় কমিশনার ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: