শীতের বিদায় আর ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়ার দিগন্তজুড়ে এখন আমের সোনালী মুকুলের সমারোহ। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে আম গাছগুলো মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আগাম মুকুল আসায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বাগানেই আমের মুকুল শোভা পাচ্ছে। মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে বাগানগুলো এখন প্রাণবন্ত। কোথাও কোথাও আগাম জাতের হাইব্রিড আম গাছে মুকুল ছাড়িয়ে ছোট ছোট গুটিও উঁকি দিতে শুরু করেছে।
স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ী কামাল মোল্লা ও ইসারুল জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের জন্য বেশ সহায়ক। এই উপজেলায় হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, আম্রপালি, বোম্বাই ও লতাসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জাতের আমের চাষ হয়। তারা আশাবাদী যে, নিজেদের ও এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এবারও এই অঞ্চলের আম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
চাষিরা আরও জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তারা নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করছেন। মুকুল আসার আগেই গাছগুলোকে সাইপারমেথ্রিন ও ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে শোষক পোকা আক্রমণ করতে না পারে। মুকুল আসার পর দ্বিতীয় দফায় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করে গাছগুলো সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম এনামুল ইসলাম এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে কলারোয়ার আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। এ বছর উপজেলায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে হেক্টর প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মণ আম উৎপাদন হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
এলাকার প্রান্তিক আম চাষিরা আমের এই বাম্পার ফলন ধরে রাখতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন।