চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়ি এলাকা হাতিয়াখোলায় বিষপানে এক রোহিঙ্গা দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাতে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম ছৈয়দ নুর (৪০)। তিনি হাতিয়াখোলার দেলোয়ারের পাহাড়ে বসবাসকারী জানে আলমের ছেলে। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ওসি মো. ইলিয়াছ খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়দ নুরের সঙ্গে একই এলাকার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের মেয়ে পারভীনের প্রায় ১৭ বছর আগে বিয়ে হয়। তারা উভয়ই রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, কিছুদিন আগে পাহাড় থেকে কাঠ কেটে এনে স্ত্রী পারভীনকে থাপ্পড় মারেন ছৈয়দ নুর। এ ঘটনায় পারভীন প্রতিবেশী জাবেদের কাছে অভিযোগ করেন। পারভীনের দাবি, জাবেদের সঙ্গে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে স্বামী তাকে মারধর করেছে। এর জেরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাবেদ ছৈয়দ নুরকে দুই দফা মারধর করেন। একই দিন রাতে জাবেদের স্ত্রী জাহেদাও প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ছৈয়দ নুরকে জুতা দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ছৈয়দ নুর ওই রাতেই বিষপান করে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তিনি বিষপানের বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে দোহাজারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
গত রোববার রাতে স্ত্রী পারভীন তার লাশ হাতিয়াখোলায় নিয়ে এলে এলাকাবাসী বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ওসি মো. ইলিয়াছ খান বলেন, তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।