দ্বীপজেলা ভোলার বৃহত্তর উপজেলা চরফ্যাশনে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
যার ফলে চরফ্যাশন পৌর শহরসহ ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ /১২ হাজার টিউবওয়েলে (গভীর নলকূপ)পানি উঠছে না।
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন বাসিন্দারা। এতে সুপেয় পানির সংকটের ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। আবার কিছু টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করা গেলেও তা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গিয়ে আনতে হচ্ছে।
বিভিন্ন বাসা - বাড়িতে দেখা দিয়েছে খাবার পানি'র সংকট। মসজিদে মসজিদে পানি না থাকার কারণে অযুতে বিঘ্ন ঘটছে। পকুরের পানিতে ময়লা থাকায় ওই পানি ব্যবহারে দেখা দিয়েছে নানা রোগ। ডায়রিয়ার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু কিশোররা।
ভুক্তভোগীরা জানান, বেশিসংখ্যক টিউবওয়েল স্থাপনের কারণে অধিকাংশ পুকুর ও খালে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে অকেজো হয়ে পড়েছে টিউবওয়েলগুলো। ফলে সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে।
এছাড়া কৃষকরা বর্তমানে সাব-মার্সিবল পাম্প ব্যবহার করছে তাদের কৃষি কাজে। ফলে টিউবওয়েলে পানি না উঠার কারণ হতে পারে এসব পাম্প ব্যবহার করার কারণে।
চরফ্যাশন উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে ১০/১২ হাজারটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় উপজেলায় রয়েছে আরও লক্ষাধিক গভীর নলকূপ।
এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও সরকারী অর্থয়ানে নির্মিত প্রায় ২ হাজার ৫০০ নলকূপ অকেজো আছে।
এসবের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে এখানে ৪০ হাজারের বেশী নলকূপের পানি উঠছেনা। সরকারি বে-সরকারি মিলিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ গভীর নলকূপে মিলছে না পানি।