সরকারি কর্মচারীরা ভাড়া না দিয়ে বসবাস করার অভিযোগ

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসভবনে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করেও ভাড়া পরিশোধ না করার মাধ্যমে কোটি কোটি

2026-02-23T20:03:46+00:00
2026-02-23T20:03:46+00:00
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সরকারি কর্মচারীরা ভাড়া না দিয়ে বসবাস করার অভিযোগ
কাউখালীতে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম 
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসভবনে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করেও ভাড়া পরিশোধ না করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ১৯৮৫ সাল থেকে চালু হওয়া এসব আবাসিক ভবনে বসবাসকারী অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যুগ যুগ ধরে সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা না দিয়েই থাকছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে বাড়ি ভাড়ার অংশ কর্তন করার কথা থাকলেও, কাগজপত্রে কারসাজি করে অনেকেই এই প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৯৮৩-৮৪ অর্থ বছরে তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে এই ভবনগুলো নির্মিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মচারী উচ্চপদে কর্মরত থেকেও নিজেদের নামে বাসা বরাদ্দ না নিয়ে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে বসবাস করছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া অনেকে বছরের পর বছর ভাড়া বকেয়া রেখে অবসরে গেছেন, আবার কেউ কেউ বকেয়া পরিশোধ না করেই মৃত্যুবরণ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর স্মৃতিকনা মন্ডলের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বসবাস করেও প্রায় ২০ লক্ষ টাকার বেশি ভাড়া ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি নিয়মিত ভাড়া দেন, তবে এর স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা কনিকার নামে বরাদ্দকৃত বাসায় থাকছেন বলেও স্বীকার করেছেন।

তালিকায় আরও নাম এসেছে উপাধ্যক্ষ সঞ্জিত সাহা, প্রয়াত সহকারী শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মো. হুমায়ুন কবির, পিডিবিএফ মাঠ কর্মী হোসনেয়ারা খাতুন, প্রভাষক জাকির হোসেন এবং তহসিলদার নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকের। তাদের কাছেও লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বকেয়া পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করা হলেও খুব সামান্য কয়েকজনই নামমাত্র টাকা জমা দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সভাপতি) এবং উপজেলা প্রকৌশলী (সদস্য সচিব) এই আবাসনগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও, তাদের দপ্তরে শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত ভাড়ার কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষিত পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু বকেয়ার বিষয়ে জেনে চিঠি দিয়েছেন, তবে দীর্ঘদিনের এই ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি তার অগোচরে ছিল। তিনি দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: