নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার বাসিন্দা ছানায়োর ও নুরু (৫০)। সম্প্রতি কাঞ্চন পৌরসভার নরাবোরটেক এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে, যা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছানায়োর ও নুরু তাদের প্রভাবশালী দলবল নিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা ভুক্তভোগী শিশুটির দরিদ্র পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা নবী হোসেন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, এই পাশবিক ঘটনার পর থেকে তার সন্তান মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং শারীরিকভাবেও অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে এই জঘন্য অপরাধটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাদের ওপর অব্যাহত চাপ দিচ্ছে। এতে করে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিচারের আশায় প্রহর গুনছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের সূত্রে জানা গেছে, নরাবোরটেক এলাকায় এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত ছানায়োর ও নুরুকে দ্রুত পুলিশি হেফাজতে নিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে যারা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে এমন ঘৃণ্য অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
এই বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সকল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"