দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জাতীয়

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

2026-02-20T17:51:38+00:00
2026-02-20T17:51:38+00:00
 
  শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
জাতীয়
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ : অর্থমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম 
 দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম এসে কাট্টলীর নিজবাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেনে তিনি। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। এতদিন যারা সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে সেটা আমরা করতে চাই না। আমরা চাই এমন বাজেট হবে যেখানে জনগণের আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির সুফল, উন্নয়নের সুফল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।বাজেট প্রণয়নে সেটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব। মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা। যেখানে দারিদ্র্য বাড়ছে। ইনডিকেটর, মানদণ্ড যেখানে দেখাচ্ছে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনীর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ কম নিচ্ছে।

এগুলো সব মিলে অর্থনীতি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো তা আমাদের প্রোগ্রামে আগে দিয়েছি। সেগুলো আমি নতুন করে বলতে চাই না। আমরা অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। অর্থনীতিকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই।এই যে ওভার রেগুলেটেড করে কিছু লোক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সুযোগ নিয়েছে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য। 
মন্ত্রী বলেন, ঋণের চাপ তো অনেক বড়। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, ঋণ নিয়েছে ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এ টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই সেটার দায় এখন পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে। যে জিনিসটা উপস্থিত নেই, যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলেছে তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এটা কঠিন একটা ব্যাপার।

পাচার করা অর্থ ফেরত আনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর জন্য সরকার টু সরকার এবং এগুলোর কিছু প্রফেশনাল কোম্পানি আছে। যাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। সবাই একসাথে কাজ করে চেষ্টা করবো যত বেশি ফিরিয়ে আনা যায়। 

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার যে একটু বেড়েছে এটা সুখবর নিশ্চয়। তবে এ বাড়াতে শেয়ারবাজার চাঙা হবে না। এটাকে ইংরেজিতে বলে কজমেটিক। আমি এ বাড়াতে কিছু হয়ে গেছে এটা বলতে চাই না। এটা হয়তো কনফিডেন্স বেড়েছে, একটা গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে বিশেষ করে বিএনপি অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টে সবসময় ভালো করেছে বোধহয় জনগণের আস্থার কারণে হয়েছে। কিন্তু এ বাড়াটা আমি বাড়া বলবো না। এটা কজমেটিক বাড়া। শেয়ারবাজারে পূর্ণাঙ্গ একটা পরিবর্তন আনতে হবে। শেয়ারবাজারকে নিয়ে, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ে অনেক আইন কানুন পরিবর্তন করে শেয়ারবাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ভালো শেয়ার বাজারে আসে। ভালো কোম্পানিগুলো আসে। জনগণ সেখানে বিনিয়োগ করার একটা সুযোগ পাবে। সেটি হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশি ফান্ড বিদেশি ফান্ড সবাইকে আকৃষ্ট করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা শেয়ারবাজারের ওপর আস্থা সৃষ্টি করতে হবে।  যে বিশ্বাস আস্থা জনগণ হারিয়েছে, আস্থার সৃষ্টি করতে হবে এবং এটা পরিচালিত হতে হবে একেবারে স্বচ্ছতার সাথে। এখানে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ নেই। সব কিছু মিলিয়ে আমরা আশা করছি, আগামী দিনের বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অর্থাৎ ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাজ এ হোল একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের আমাদের পরিকল্পনা আছে। সেটা বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের একটা বিপ্লব ঘটবে আমরা আশা করি। শুধু শেয়ারবাজার না, তার সাথে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবসা বাণিজ্য শিল্পের বিনিয়োগ একটা বড় আকারে বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রপ্তানি বাড়বে। প্রডাকশন বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যের একটা স্থিতিশীলতা আসবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এখন বাণিজ্যিক রাজধানীর কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলোতো এক কথায় বলা যাবে না।সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর জুমার নামাজ আদায় করেন নগরের কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে। এছাড়া নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী। একই স্থানে বিকেলে তিনটায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 



Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: