বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করার গুজব ছড়িয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভূমি দস্যুরা রাতের আঁধারে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে ইটভাটায় সরবরাহের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভূমি দস্যুদের সেই অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহানী এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে ইটভাটার জন্য টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত চারটি এক্সক্যাভেটর, আটটি ডাম্প ট্রাক ও দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে বিকল করে দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ইটভাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি চক্র সেনাবাহিনীকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে কেউ টপসয়েল কাটার বিষয়টি সেনাবাহিনীকে না জানায়। বিষয়টি জানার পর সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সাব্বির আহাম্মেদ সানির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে টপসয়েল কাটার সঙ্গে জড়িতরা এক্সক্যাভেটর, ডাম্প ট্রাক ও শ্যালো মেশিন ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেগুলো বিকল করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানকার মাটি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার গুজব ছড়িয়ে নির্বিঘ্নে কৃষিজমির মাটি কাটার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নিয়মিত অভিযান এসব মাটিখেকোদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে একটি গুজব সৃষ্টি করে ইটভাটায় মাটি সরবরাহের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেনাবাহিনী তাদের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
সাতকানিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজ বলেন, গভীর রাতে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে ইটভাটার জন্য টপসয়েল কাটার চেষ্টা করা হয়েছিল। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়। সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।