জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সহ তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটারের উপস্থিতি সন্তোষজনক হলেও কয়েকজন প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হন।
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬ শত ৫৬ ভোট ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮ শত ২০ ভোট।
এছাড়া যেসব প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১ শত ২১ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৯ শত ৩১ ভোট ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক ট্রাক প্রতিকে পেয়েছেন ২ শত ২৬ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭ শত ৭ জন এর মধ্যে ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ৮০ হাজার ৯ শত ৪৬ ভোট এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭ শত ৫৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ১ শত ৯২ ভোট।
এদিকে বিজয়ী প্রার্থী সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ উদ্যাপন ও দোয়া মাহফিল করছেন এবং এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।