ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও তার জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন। বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকা মহানগরের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ৯টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছে। আর জামায়াত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে একটিতে জামায়াতের শরিক এনসিপি বিজয়ী হয়েছে। তবে ভোট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বেশিরভাগ আসনে সামান্য ভোটের ব্যবধানের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। ফলে রাজধানীতে বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রায় ‘সমানে সমান’।
ঢাকা-৪ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। এছাড়া ঢাকা-৫ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. নবী উল্লাহকে হারিয়েছেন। মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। আর মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
অপরদিকে ঢাকা-৬ আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন।
ঢাকা-৭ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫ হাজার ২৩৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
তবে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বাবিব। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। হাবিবুর রশিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। আবার ঢাকা-১০ আসনের ভোটে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের চেয়ে ৩ হাজার ৩০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। নির্বাচনে শেখ রবিউল আলম মোট ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়েছেন। জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
ঢাকা-১১ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এ আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। নাহিদ ইসলামের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ কাইয়ুমের চেয়ে ২ হাজার ৩৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। এদিকে বিএনপির জোটে প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়ে ঢাকা-১২ আসনে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। এ আসনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়েছেন। সাইফুল আলমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল হক বিএনপি জোটের প্রার্থী। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন। ববি হাজ্জাজ মোট ভোট পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭। অন্যদিকে মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।
ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। আর ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ঢাকা-১৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট (পোস্টাল ব্যালটসহ) ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। আর এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।