ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে। আর জামায়াত জোট ৭৭টি আসন পাওয়ায় এ জোট থাকছে বিরোধীদলে। ফলে এই প্রথম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আর বিরোধীদলীয় সংসদ উপনেতা হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ২১২ আসনে বিএনপি জোট ইতিমধ্যে জয় পেয়েছেন। আর জামায়াত জোট নির্বাচিত হয়েছে ৭৭টি আসনে। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন ৮টি আসনে। বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় সরকার গঠন করবে দলটি। আর জামায়াত থাকছে বিরোধীদলে। যেসব আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট জয় পেয়েছে তারমধ্যে রয়েছে-নীলফামারী-১ আব্দুস সাত্তার। নীলফামারী-২ আব্দুল লতিফ। নীলফামারী-৩ ওবায়দুল্লাহ সালাফী। নীলফামারী-৪ আব্দুল মুনতাকিম। যশোর-১ আজীজুর রহমান। যশোর-২ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ। যশোর-৪ গোলাম রছুল।বাগেরহাট-২ শেখ মনজুরুল হক। বাগেরহাট-৪ আব্দুল আলীম। কুড়িগ্রাম-৩ মাহবুবুল আলম সালেহী। সাতক্ষীরা-৩ রবিউল বাশার। ঝিনাইদহ-৪ আবু তালিব। নড়াইল-২ আতাউর রহমান। কুড়িগ্রাম-২ আতিকুর রহমান মুজাহিদ (এনসিপি)। রংপুর-৩ মাহবুবুর রহমান বেলাল। রংপুর-৪ আখতার হোসেন (এনসিপির সদস্য সচিব)। ফরিদপুর-১ ইলিয়াস মোল্লা। নওগাঁ-২ এনামুল হক। চুয়াডাঙ্গা-২ রুহুল আমিন। রংপুর-২ আজহারুল ইসলাম। কুষ্টিয়া-৪ আফজাল হোসেন। সাতক্ষীরা-১ ইজ্জত উল্লাহ। সাতক্ষীরা-২ আব্দুল খালেক। সাতক্ষীরা-৪ নজরুল ইসলাম।
কুড়িগ্রাম-৪ মোস্তাফিজুর রহমান। রংপুর-১ রায়হান সিরাজী। রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী। খুলনা-৬ আবুল কালাম আজাদ। পটুয়াখালী-২ শফিকুল ইসলাম। চট্টগ্রাম-১৫ শাহজাহান চৌধুরী। কুমিল্লা-৪ হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি)। কুমিল্লা-১১ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। যশোর-৬ মোক্তার আলী। পিরোজপুর-১ মাসুদ সাঈদী। মেহেরপুর-১ তাজউদ্দীন খান। মেহেরপুর-২ নাজমুল হুদা।
গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান। রংপুর-৬ নুরুল আমীন। পাবনা-৪ আবু তালেব মন্ডল। রাজশাহী-১ মুজিবুর রহমান। কুড়িগ্রাম-১ আনোয়ারুল ইসলাম। গাইবান্ধা-২ মো. আব্দুল করিম। গাইবান্ধা-৩ আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। গাইবান্ধা-৫ মো. আব্দুল ওয়ারেছ। জয়পুরহাট-১ মো. ফজলুর রহমান সাঈদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. কেরামত আলী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মু. মিজানুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ মো. নূরুল ইসলাম। রাজশাহী-৪ মো. আব্দুল বারী সরদার। সিরাজগঞ্জ-৪ মো. রফিকুল ইসলাম খান। পাবনা-১ মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। পাবনা-৩ মুহাম্মাদ আলী আছগার। কুষ্টিয়া-২ মো. আব্দুল গফুর। কুষ্টিয়া-৩ মো. আমির হামজা। চুয়াডাঙ্গা-১ মো. মাসুদ পারভেজ। ঝিনাইদহ-২ আলী আজম মো. আবু বকর। ঝিনাইদহ-৩ মো. মতিয়ার রহমান। যশোর-৫ গাজী এনামুল হক। বাগেরহাট-১ মো. মশিউর রহমান খান। খুলনা-২ শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। শেরপুর-১ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। ময়মনসিংহ-৬ মো. কামরুল হাসান। নেত্রকোণা-৫ মাছুম মোস্তফা। ঢাকা-৪ সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। ঢাকা-৫ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। ঢাকা-১১ নাহিদ ইসলাম(এনসিপি) ঢাকা-১২ মো. সাইফুল আলম খান নীরব। ঢাকা-১৪ মীর আহমাদ বিনকাসেম। ঢাকা-১৫ মো. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৬ মো. আব্দুল বাতেন। গাজীপুর-৪ সালাহ উদ্দিন। চট্টগ্রাম-১৬ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উল্লেখ্যযোগ্য। এরআগে যে কয়টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে জামায়াত ১৮-থেকে ২০টির বেশি আসন পায়নি। ফলে ইতিহাসে এই প্রথম অনেক আসন পেয়ে বিরোধীদল হতে যাচ্ছে জামায়াত। ফলে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। এতে সংসদ উপনেতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক মো. নাহিদ ইসলামকে করার চিন্তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, গতকাল জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হতে পারিনি সেহেতু আমরা বিরোধীদলে থাকবো এটা বলাই যায়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ বিভিন্ন পদে কে থাকবেন এটা নিয়ে ১১ দলের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৮ বছর পর মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোটও। এতে হ্যাঁ ভোটের জয় হয়েছে। এবার ছোটখাট দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।