আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছেড়ে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের ফেলে তিনি বিশ্রামে যেতে পারেন না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা একথা জানান। তিনি জানান, অবসরে যাওয়ার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সঠিক নয়। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে উঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গণতন্ত্র “আক্রান্ত” এবং দলের নেতাকর্মীরা “নির্যাতনের” শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তন দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এবং কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। তার মতে, দলটি এখন “এক ধরনের প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও অবসরের বিষয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন—যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও দণ্ডের রায় ঘোষণার খবরও বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও রায় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যেই রয়েছে।
দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। দেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।