ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন ছাড়ার আগে তিনি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় পেয়েছিলেন। এ কারণে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, শুরুতে তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাওয়া। তবে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শেষ মুহূর্তে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আন্দোলনকারীদের গণভবন ঘেরাওয়ের সময় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে কোনো পদত্যাগপত্র লেখার মতো সময় ছিল না।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ার কথা কখনো ভাবেননি।
৫ আগস্টের ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক দিন নয়’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ তাঁকে ও তাঁর বোন শেখে রেহেনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গণভবনে লোক প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, তাঁকে দেওয়া দণ্ড কোনো নিরপেক্ষ বিচার নয়।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে সরকার উৎখাতের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা কাজ করেছে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ জড়িত ছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, প্রতিবেদনটি নিরপেক্ষভাবে প্রস্তুত হয়নি এবং এতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকালীন ঘটনাপ্রবাহ এবং পরবর্তী তদন্তে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।