ভোটাধিকার শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ এই বার্তাই যেন বাস্তবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সৈয়দপুরের কয়েকজন প্রবীণ ভোটার। শারীরিক অক্ষমতা, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে তারা হাজির হয়েছেন ভোটকেন্দ্রে, যা তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী, আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ।
সৈয়দপুর সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়, ৯০ বছর বয়সী নাজমা বেগম সর্বপ্রথম ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। বয়সের ভার, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি নিজ উদ্যোগে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, “ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করতে চাই। দেশ আমার, ভোটও আমার।”
তারপর কেন্দ্রে আসেন নতুন বাবুপাড়া এলাকার ৭২ বছর বয়সী আবু বক্কর সিদ্দিক। হাঁটার সামর্থ্য না থাকায় স্থানীয় আনসার সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম এর সহযোগিতায় তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়। দুর্বল শরীর, কাঁপা পা সবকিছুর মাঝেও তার চোখেমুখে ছিল দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস।
ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, “অনেকে বলে বয়স হয়ে গেছে, এখন আর ভোটের দরকার কী। আমি বলি, বয়স যত বাড়ে দায়িত্বও তত বাড়ে।”
এছাড়াও কেন্দ্রে উপস্থিত হন ৭৩ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারী ভোটার। শারীরিক কষ্ট নিয়েই কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করেন তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেমেয়েরা বাধা দিয়েছিল, তবুও এসেছি। ভোট না দিলে মনে শান্তি পাই না।”
এই দৃশ্য শুধু সাধারণ ভোটারদের মধ্যেই নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝেও গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার অনুভূতি তৈরি করে।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত এক নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, “প্রবীণদের এই দৃঢ়তা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে এসেছেন এটা গণতন্ত্রের প্রতি তাদের গভীর দায়বদ্ধতার প্রমাণ।”
স্থানীয় এক ভোটার জানান, “এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। এই মানুষগুলো আমাদের শেখালেন, ভোট শুধু অধিকার নয় এটা দায়িত্ব, সচেতনতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক।”
এসময় সৈয়দপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রবীণ ভোটারদের এই উপস্থিতি আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাকে মর্যাদাবান করেছে। শারীরিক অক্ষমতা ও বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে এসেছেন এটা শুধু দায়িত্ববোধ নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সচেতনতার প্রকাশ। আমরা তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”