বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বহু বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যুবসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এবারের ভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন ডা. শফিকুর রহমান। ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
‘১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে দেশের অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তিনিও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য, বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণ সমাজ জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। এবারের ভোট যেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন সূচনার প্রত্যাশা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হোক। তিনি এমন একটি সরকার গঠনের প্রত্যাশা করেন, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে পরিচালিত হবে না; বরং দেশের সব মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা সম্ভব। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে যে ফলাফল আসবে, তা সবাইকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
অনিয়ম নিয়ে অবস্থান
নির্বাচন চলাকালে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটখাটো ঘটনা বড় করে না দেখলেও গুরুতর কোনো অনিয়ম হলে তা উপেক্ষা করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন—তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে নিরপরাধ কাউকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করাও অনুচিত।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, মিডিয়া সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গর্বিত অংশীদার হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে ভোট দেওয়ার।
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব পক্ষই তাদের অবস্থান তুলে ধরছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা সময়ই বলে দেবে।
ভোট প্রদান শেষে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তিনি অন্যান্য কেন্দ্রও পরিদর্শন করবেন এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।