নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনে ৫৬২টি ভোটকেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৬৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে সব কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নতুন করে ২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চারটি জুডিশিয়াল তদন্ত টিমের মাধ্যমে আটজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কিছু কেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটলেও, দ্রুত নতুন ক্যামেরা বসানো হচ্ছে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। ভোটসংক্রান্ত যে-কোনো অভিযোগ গ্রহণে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোলরুম চালু থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ২৬৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৭১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৯৩টি গুরুত্বপূর্ণ। অতীত সহিংসতা, কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে মোট ভোটার ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৩০৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৯, পুরুষ ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। ভোটকক্ষ রয়েছে ২ হাজার ২২৮টি।
চারটি আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে ৮ জন, নীলফামারী-২ এ ৬ জন, নীলফামারী-৩ এ ৪ জন এবং নীলফামারী-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।