তেঁতুলিয়ায় জাল সার্টিফিকেটে ২৬ বছর মাদ্রাসায় চাকরির অভিযোগ: তদন্তে শিক্ষা অফিসার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাল-জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় চাকরি করার এক

2026-02-09T15:24:17+00:00
2026-02-09T15:24:17+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
তেঁতুলিয়ায় জাল সার্টিফিকেটে ২৬ বছর মাদ্রাসায় চাকরির অভিযোগ: তদন্তে শিক্ষা অফিসার
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাল-জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় চাকরি করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ইউনিয়নের কালদাসপাড়া গ্রামের জহির উদ্দীন আহমদের ছেলে। একই গ্রামের মেনাজুল হকের ছেলে মো. তাহিরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে এই অভিযোগ পেশ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজার রহমান নিয়োগের সময় থেকে যাবতীয় ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বদরুজ্জামান বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে বেতন ও ভাতা বাবদ সরকারি অংশ উত্তোলনের ক্ষেত্রে তিনি যে জন্মতারিখ ব্যবহার করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। এনআইডি কার্ডের পাশাপাশি তার অ্যাকাডেমিক সব সার্টিফিকেটও জাল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। এই জালিয়াতির বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী তাহিরুল ইসলাম জানান, একটি দেওয়ানি মামলা চলাকালীন আদালতে মাহফুজার রহমানের জালিয়াতির প্রমাণ সামনে আসে। মামলাটি মাহফুজার রহমান নিজেই তাহিরুলদের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে দায়ের করেছিলেন। আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এক আদেশে জানান যে, নথিপত্র অনুযায়ী মাহফুজার রহমানের প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর। অথচ মাদ্রাসার নিয়োগ বিধিমালা ও বেতন বিলে তার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি। আদালতের আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের জন্মতারিখটি সঠিক নয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে অর্জিত সকল সনদ বা সুবিধা অবৈধ। ২৬ বছর ধরে এই অবৈধ উপায়ে সরকারি অর্থ ভোগ করার বিচার চেয়েই তিনি ইউএনও’র দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচার না পেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহফুজার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনে থাকা তথ্যই সঠিক। তিনি আরও বলেন, জমি কেনাবেচার সময় নাবালক থাকার কারণে তথ্যের কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে, যা বর্তমানে প্রতিপক্ষ তার চাকরির ক্ষতি করার জন্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বদরুল আলম সরকার জানান, সার্টিফিকেটে থাকা তথ্য অনুযায়ীই নিয়োগ হয়েছে এবং তিনি কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি।

গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তদন্তে আসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শওকত আলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে তিনি অশালীন ও ‘তুইতোকারি’ ভাষায় কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্তকালে তিনি আদালতের সেই আদেশটি প্রত্যক্ষ করেন যেখানে শিক্ষকের জন্মতারিখের অসামঞ্জস্য ফুটে উঠেছে। এ ব্যাপারে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনি ব্যস্ততা শেষ হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবেন।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: