কাজে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: বন্দর চেয়ারম্যান

চট্টগ্রাম ব্যুরো

কাজে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। রোববার দুপুরে

2026-02-08T18:15:20+00:00
2026-02-08T18:20:49+00:00
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
কাজে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: বন্দর চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম ব্যুরো
রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম  আপডেট: ০৮.০২.২০২৬ ৬:২০ পিএম

কাজে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। রোববার দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংশ্লিষ্ট আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন।  

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরকে হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা। আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, চুক্তি তো না হওয়ার আগে আপনি তো বলতে পারবেন না কী চুক্তি হয়েছে। চুক্তি এখনো হয়ই নাই। একটা প্রিম্যাচিওর একটা প্রসেস নিয়ে এভাবে আগে থেকে একটা ভন্ডুল করার আমার কাছে মনে হয় যে একটা অপপ্রচেষ্টা অথবা বাধাগ্রস্ত করা এবং এটা আমি আপনাদেরকে শুধু এটুকু বলতে পারি, দেশের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে, ভবিষ্যতের স্বার্থে এবং বন্দরের স্বার্থে এটা যেটা করা সেটাই হবে, এখন কখন শেষ হবে, কবে হবে, এটা ওই প্রসেসটা শেষ হওয়ার পরেই চুক্তি হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বিগত দেড় বছরে সব ইন্ডিকেটরেই অতীতে সমস্ত রেকর্ড অতিক্রান্ত করে মোটামুটি একটা সাফল্যের একটা অনন্য উচ্চতায় গিয়েছে। বাট আমাদের যে বৈশ্বিক যে প্রতিবন্ধকতা, যে লজিস্টিক চেইন, গ্লোবাল লজিস্টিক এর সাথে যদি আমরা কানেক্ট হতে চাই তাহলে আমাদের বন্দরগুলোকে আধুনিক মানের করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে।

ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেটা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে আপনারা জানেন, সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইডির মধ্যে পাঁচটা বন্দর ২০১৯ সাল থেকে উনারা পর্যায়ক্রমে চালু করেছেন। পিএসএ সিঙ্গাপুরের চারটা, তারপরে এপিএমসি, তাদের টার্মিনাল আছে। তো সব মিলায়ে কিন্তু উনারা দেখেন আন্তর্জাতিক মানের স্টেট স্টেটে চলে গেছে এবং সেখানে পার্শ্ববর্তী দেশে, ইন্ডিয়াতে, প্রায় ৭০ শতাংশ হলো : আপনার পোর্ট হলো, আপনার এই ফরেন অপারেটররা অপারেট করে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এই ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেল, এটা আমরা এডিট করেছি। সেই আলোকেই কিন্তু আমরা যাচ্ছি। এটা একটা গ্লোবাল প্র্যাকটিস। এটা একটা স্ট্যান্ডার্ড বেস প্র্যাকটিস ইন গ্লোবাল স্টেজ। যে লজিস্টিক্স করিডোরে আপনার হলো ল্যান্ডলর্ড কোর্ট মডেল। অর্থাৎ আমরা ল্যান্ডলর্ড বাট পোর্টের যেই ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব এটা হলো অপারেটরের, একজন আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরকে দিয়ে করলে তারা একটা আন্তর্জাতিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। পোর্টের এফিশিয়েন্সি, ক্যাপাসিটি এবং সেখানে তাদের ইকুইপমেন্টও তাদের, ইকুইপমেন্টের রিপেয়ার মেন্টেনেন্স তাদের এবং এটার অপারেশনও দায়িত্ব তাদের।

তিনি বলেন, সেখান থেকে তারা কমপিট করে প্রফিট করে আমাদের সাথে প্রফিট শেয়ার করবে। ইতোমধ্যে আমরা এই ধরনের দুইটা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে এই প্রজেক্ট করেছি। একটা হলো লালদিয়া। আর তার আগে একটা হয়েছিল আপনার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। তো সেই প্রক্রিয়ায় আমরা এখন বেটার্মিনাল একটা চলছে। আরেকটা হলো এনসিটি।

তিনি বলেন, এখন সবার প্রশ্ন থাকে যে, এনসিটি তো একটি চলমান পোর্ট। এটা কিন্তু ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের এনসিটির যেই ইকুইপমেন্ট, এই ইকুইপমেন্টের কিন্তু এভেলেবিলিটি ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। অনেক ইকুইপমেন্ট বসলি হয়ে গেছে। অনেক ইকুইপমেন্ট পুরাতন এবং এগুলো ম্যাক্সিমাম প্লেস করতে হবে। এখানে অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। তো সেখানে এই ইকুইপমেন্টগুলো অপারেট করার জন্য এবং মেন্টেনেন্স এবং রিপেয়ারের জন্য এবং প্রক্রিমেন্টের জন্য আন্তর্জাতিক যদি কোনো অপারেটর আসে, তাহলে এটা তারা ওই কম্পিটিটিভ একটা স্টেটে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ এখানে কমপ্লিটলি আধুনিকায়ন হবে।

তিনি আরো বলেন, এই ইকুইপমেন্টগুলো তারা হয়ত এক বছরের মধ্যেই ওরা চেঞ্জ করে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসবে। এটা হলে আমাদের দেশে যেই এক্সপোর্ট বাড়বে এবং ইনভেস্টমেন্ট গল আসবে এবং বড়ো বড়ো আপনার যে সমস্ত ফ্যাক্টরি গুলো, সেগুলো বাংলাদেশে আসার সুযোগ তৈরি হবে। আপনারা জানেন যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইতোমধ্যেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে অলরেডি ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করেছে এবং আমেরিকাও তাদের যে আগে যে ট্র্যাজেডি ছিল ৫০ শতাংশ, সেটাকে এখন ১৮ শতাংশ করে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে কিন্তু একটা বড়ো একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। যদি আমরা পোর্টকে আধুনিক মানের করে কম্পিটিটিভ না করি, তাহলে গ্লোবালি না, মানে রিজিনালি, আমরা কিন্তু খুব কমপিটিশনের একটি ইয়েতে পিছে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই রিজনাল কান্ট্রির ভিতরে হলে রিং-এ আমরা হলো সবচাইতে নিচে আছি। তো সেজন্য আমাদের পোর্টের যদি ক্যাপাসিটি না বাড়ে তাহলে কিন্তু ফরেন ইনভেস্টমেন্ট এবং দেশের যে ফিউচার ডেভেলপমেন্ট এটা বাধাগ্রস্ত হবে। এখন হল হল ল্যান্ডলর্ড পোর্ট মডেল যেটা আমরা যে, এটা গ্লোবাল প্র্যাকটিস এবং নিয়েছি, সেটা।

তিনি বলেন, আমরা একটা জি টুজি অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে করেছি এবং ইউএইর সাথে আমাদের একটা প্ল্যাটফর্‌ম মিটিং হয়েছিল। সেই প্ল্যাটফর্‌ম মিটিং-এ আমরা বলেছিলাম যে এনসিটি, সিসিটি, তারপরে হলো : আইসিটি ঢাকা এবং তার সাথে হলো আপনার ধরেন নামে একটা জায়গায়, ওখানে একটা আইসিটি করার জন্য উনাদেরকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, উনারা ওইগুলো উপরে বেসিস করেই যখন ২০২৩ সালে এটা অনুমোদিত হয়, তখন আমরা শুধু এনসিটি তাদেরকে কমিট করেছিলাম এবং সেই অনুসারে, কিন্তু এনসিটির কার্যক্রম একটা জি টু যে প্রক্রিয়া আছে, সেটা একটা আইনের মাধ্যমে হয়, সেটা আইনগতভাবে এই প্রক্রিয়াটা চলছে চলমান, এখানে ৩২টা স্টেজ আছে। এখানে আমাদের এই স্টেজ শর্ট্‌কাট করারও কোনো সুযোগ নাই। আবার কোনো প্রসেসও আমাদের কম্প্রমাইজ করার কোনো সুযোগ নাই। 

তিনি আরও বলেন, আমরা যে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ করেছি আইএফসি, এটা হলো : ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটা কনসাল, এটা পৃথিবীর আপনার এক নাম্বার একটা কনসাল্টেন্সিজেশন। তারা আমাদের এই কনসাল্টেন্সি করছে। ঠিক একইভাবে ওয়ার্ডের ওনাদেরও একটি ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার আছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটা কবে শেষ হবে এটা একটা প্রসেসের মধ্যে যাচ্ছে। এর মধ্যে আপনারা জানেন, আইনি জটিলতাও হয়েছে, হাইকোর্টে যে রিট হয়েছিল, সেটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে এখন আবার এটা রিট, পিটিশনাররা আবার নতুন করে রিড করেছেন, আপনার সুপ্রিম কোর্টে, এলিট ডিভিশনে তো সেটারও শুনানি এখনো হয় নাই। ওটা শুনানিী হবে এবং এরপরে আপনার আইনগত বিষয়গুলো উঠে গেলে তারপরে নেগোসিয়েশনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, যেটা একটা জিটুজি কমিটির মাধ্যমে হচ্ছে, ডুয়ে বল হয়, তাহলে কিন্তু তখন এটা আবার ওই প্রসেসের মাধ্যমে সরকারের কাছে যাবে। যাওয়ার পরে সরকার যদি এটা ক্যাবিনেটে নিয়ে এটা যদি অনুমোদন হয় তারপরে চুক্তি হবে। এই প্রক্রিয়াটা আসলে কবে শেষ হবে এটা আমরা বলতে পারি না। বাট প্রক্রিয়াটা কিন্তু ডিউ প্রসেস যেটা এটা আমরা করে যাচ্ছি।

ইলেকশনের আগে তড়িঘড়ি করে চুক্তির তথ্য আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করে যে এত তাড়াহুড়া করে হচ্ছে কেন। আমি তো তাড়াহুড়ার কোনো কিছু দেখি না। তাড়াহুড়া হলে তো গত দেড় বছরের মধ্যে চুক্তি হয়ে যেত। এখন আবার প্রশ্ন আসছে, কেন ইলেকশনের আগে তড়িঘড়ি করে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নটা কোত্থেকে আসলো- আমার আমার কাছে মানে বোধগম্য নয়। কারণ যেদিন আপনার হাইকোর্টের রাইটার দেওয়া হলো ওইদিনই সারা মানে চিটাগাং পোর্টের ভিতরে শুরু হয়ে গেল মানে মিছিল। তারপরে কর্ম প্রত্যাহার এই ধরনের কার্যক্রম কোথা থেকে আসলো আমি এটা আসলে আমি জানি না।

জনগণের স্বার্থ সমুন্নত রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোথাও কম্প্রমাইজ করছি বা দ্রুত করছি কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমরা রাষ্ট্রের যেই পজিশন অবসলিউটলি কারেক্ট, তা করবো। রাষ্ট্রের সুবিধার্থে, রাষ্ট্রের যেই প্রয়োজনে এবং রাষ্ট্রের যেটার জন্য যেটা সুবিধাজনক হবে, আমাদের সেটাই আমরা করব। এটা দেশ এবং জনগণের মানে স্বার্থটাকে সমুন্নত রেখে করা হবে। এর বাইরে যাওয়ার আমাদের কোনো সুযোগ নাই।



Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: