ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আকরাম আলীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জোটটি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়।
আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সালথা উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আকরাম আলী অভিযোগ করেন, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে গট্টি ইউনিয়নের বুড়িদিয়া বাজারে গণসংযোগে গেলে স্থানীয় বিএনপি নির্বাচনী অফিস থেকে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে একদল লোক এসে অশালীন স্লোগান দিতে থাকে। তারা তার গাড়ি আটকে দিয়ে রিকশা প্রতীকের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমার আসনে রিকশা প্রতীকের নেতাকর্মীদের হুমকি-ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানাই। গত রাতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে নির্দেশনা দিচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করে কেউ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।”
এ সময় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সিংহপ্রতাপ গ্রামের বিএনপি কর্মী ইব্রাহিম মোল্যা বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে বুড়িদিয়া বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিসে একটি বৈঠক চলছিল। এ সময় রিকশা প্রতীকের প্রার্থী গাড়িবহর নিয়ে বাজারে আসেন। একজন কর্মী ছবি তুলতে গেলে উভয় পক্ষ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে তিনি এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তার দাবি, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি; ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, উভয় পক্ষের স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে প্রশাসনের টহল অব্যাহত রয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।