আগেই বাংলাদেশ-জাপান পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত

কেএম শরীফ ইমতিয়াজ

জাতীয়

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগেই বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) সই করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ

2026-02-07T11:23:12+00:00
2026-02-07T11:23:12+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
আগেই বাংলাদেশ-জাপান পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত
৭ হাজারের বেশি পণ্য রপ্তানিতে মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা
কেএম শরীফ ইমতিয়াজ
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ এএম 
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগেই বাংলাদেশ ও জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) সই করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করল। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশী পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে।

গতকাল শুক্রবার জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই চুক্তি সই করেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক তথ্য বিবরণীতে বাংলাদেশের তথ্য অধিদপ্তর গতকাল এসব তথ্য জানিয়েছে। তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা নেগোসিয়েশনের ফলই এ চুক্তি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগেই বাংলাদেশের বাণিজ্য-কূটনীতিতে যুক্ত হলো এক নতুন ইতিহাস। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক চুক্তিতে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে শুধু শুল্কমুক্ত বাজারই নয়- বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সেবা বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলে গেল। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতায় এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী অর্জন।

জাপানের টোকিওতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তার বক্তব্যে এ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, অংশীদারিত্ব ইপিএ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে। চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। তিনি আরও বলেন, বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে, ফলে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জাপানের আরও কয়েক হাজার পণ্য শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে বাংলাদেশের বাজারে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। এর পাশাপাশি, জাপানের আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং লজিস্টিকস প্রভৃতি খাতে জাপানি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হলে আমাদের দেশীয় পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। এছাড়াও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) বিকাশ এবং একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

অপরদিকে, নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিও করবে সরকার: অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যেন রপ্তানি আয় সুরক্ষিত থাকে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ে; সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল টোকিওতে সই হয়েছে। আর আগামী (সোমবার) ওয়াশিংটনে সই হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাণিজ্য সচিব আরও জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে, যদিও কত শতাংশ কমানো হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলেই এই ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাণিজ্য উপদেষ্টা ইতোমধ্যে এই চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর সই করা কপি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে প্রতিনিধি দল। আগামী সোমবার অনলাইনে যুক্ত থাকবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিব। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র সফরকারী বাংলাদেশ দলের প্রধান দায়িত্বে আছেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান। 

গবেষণা বলছে, এলডিসি-সংক্রান্ত সুবিধা শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশ বছরে সর্বোচ্চ আট বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক চুক্তি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তথ্যমতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সে কারণে কার্যদিবস কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি ভার্চ্যুয়ালি সম্পন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো- আমেরিকান তুলা ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাককে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া। প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, যে রপ্তানিকারকরা প্রমাণ করতে পারবে যে তাদের পণ্যের ৬০-৭০ শতাংশ উপকরণ (যেমন তুলা) যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা, তারা এসব উপকরণের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: