সংস্কার ও মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

রাজনীতি

রাজধানীর শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী-গেন্ডারিয়ার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। নাগরিক সেবায় পিছিয়ে পড়া আসনটিতে যেন সমস্যার কমতি নেই। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত

2026-02-02T17:44:14+00:00
2026-02-03T10:27:30+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
পোস্তগোলা-শ্যামপুরে আনবো মেট্রোরেল, গড়বো পরিকল্পিত শিল্পনগরী
সংস্কার ও মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
একান্ত সাক্ষাৎকারে তানভীর আহমেদ রবিন-
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম  আপডেট: ০৩.০২.২০২৬ ১০:২৭ এএম
রাজধানীর শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী-গেন্ডারিয়ার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। নাগরিক সেবায় পিছিয়ে পড়া আসনটিতে যেন সমস্যার কমতি নেই। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের সংমিশ্রণে ঘনবসতিপূর্ণ আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০৬ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। তাঁর বাবা সালাহউদ্দিন আহমেদ এখান থেকে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে ভোরের ডাকের স্টাফ রিপোর্টার সোহাগ রাসিফ -কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলাপ করেন তানভীর আহমেদ রবিন। আলাপচারিতার বিশেষ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ভোরের ডাক: ভোটের প্রচারণা কীভাবে করছেন? মানুষের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
তানভীর আহমেদ রবিন: আমি এই এলাকারই সন্তান। বাবা সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন এখানকার মানুষের খেদমত করেছেন। আমি এখান থেকে অ্যারেস্ট হয়েছি, এখানকার মানুষ আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর থেকে পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক ও মুক্ত আলোচনার পাশাপাশি আমি প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই স্বেচ্ছায় আমার প্রচারণায় নামছে। এ ছাড়া মানুষ যাতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আমার কাছে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছি, যা আমি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করি এবং পরিচয় গোপন রাখি। সেখানে মানুষ তাদের অভিযোগ ও পরামর্শ জানাচ্ছে। এটা সবসময় চালু থাকবে।

ভোরের ডাক: প্রচারণায় সমর্থকেরা কতটুকু আচরণবিধি মানছে? কোনো পরামর্শ দিয়েছেন?
তানভীর আহমেদ রবিন: আমার এলাকার নেতাকর্মীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, যা মূলত আমার বাবার আদর্শ ও কঠোর নিয়মানুবর্তিতার প্রতিফলন। প্রচারণা শুরুর আগেই সভা-সেমিনার করে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছি। তারা শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করছে।

ভোরের ডাক: রাজধানীর পিছিয়ে পড়া এলাকার মধ্যে এই আসনটি অন্যতম। কী কী নাগরিক সমস্যা আপনার চোখে পড়ে এবং তা সমাধানে আপনি কতটুকু অঙ্গীকারবদ্ধ?
তানভীর আহমেদ রবিন: এই এলাকায় গ্যাস-পানির সংকট প্রকট, রাস্তায় প্রচুর ধুলাবালি-জলাবদ্ধতা, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, নেই ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতাল, কবরস্থান-খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টারের অভাব। বড় সমস্যা হলো শ্যামপুরের খাসমহল ও ভূমি জটিলতা। ২০১৪ সালে হঠাৎ কিছু এলাকাকে খাসমহল ঘোষণা করায় মানুষ কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করেও জমির খাজনা বা নামজারি করতে পারছে না। আমি গত দেড় বছর মানুষের সঙ্গে আলাপ করে এই সমস্যাগুলো খুঁজে পেয়েছি এবং এগুলো সমাধানে আমার ২০টি পরিকল্পনার কথা মানুষকে জানাচ্ছি। নির্বাচিত হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে সমাধান করব।

ভোরের ডাক: চমক হওয়ার মতো আর কী পরিকল্পনা করেছেন?
তানভীর আহমেদ রবিন: আমার বড় লক্ষ্য হলো যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিল্পায়ন। বর্তমানে ডেমরা পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমি পোস্তগোলা ও শ্যামপুরকে মেট্রোরেলের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেব। এ ছাড়া কদমতলীতে নতুন রাস্তা তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করব। পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়তে চাই, যা এই এলাকাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করবে।

ভোরের ডাক: এবারের নির্বাচনে প্রচুর তরুণ ভোটার। আপনি ঢাকা-৪-এর তরুণদের নিয়ে কী ভাবছেন?
তানভীর আহমেদ রবিন: এখানকার তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে চাই। তাদের গতানুগতিক শিক্ষার বদলে সমাজকল্যাণ ও যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থায়ী সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করব। একাধিক খেলার মাঠ, মনোরম পাঠাগার ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র তৈরি করাও আমার অন্যতম লক্ষ্য। তরুণদের নিয়েই আমাদের চেয়ারম্যান আগামীর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন।

ভোরের ডাক: গণভোটে আপনার অবস্থান কী? এ বিষয়ে দল কী নির্দেশনা দিয়েছে?
তানভীর আহমেদ রবিন: বিএনপি সবসময় সংস্কারে অটল ও মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুরুতে দলীয় অবস্থান কিছুটা নিরপেক্ষ থাকলেও সম্প্রতি আমাদের নেতা তারেক রহমান একটি সমাবেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন। সুতরাং এ নিয়ে আর কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিবর্তনের পক্ষে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।

ভোরের ডাক: শেষ প্রশ্ন। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা সোশ্যাল বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন কি না?
তানভীর আহমেদ রবিন: ৫ আগস্টের আগে সোশ্যাল বুলিং করত ফ্যাসিবাদের দোসররা, এখন দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াত। দেশের মানুষ জামায়াতকে গুজববাহিনী হিসেবে জানে—এটা প্রতিষ্ঠিত। কোনো সমালোচনা করলেই প্রতিনিয়ত গালির শিকার হই আমরা। শুধু তাই নয়, নেতাকর্মীদের মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদেরও গালি দেওয়া হয়। তবে আমি এই এলাকায় তাদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই এবং তাদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে চাই।


Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: