ফেসবুক স্ট্যাটাসকে গুরুত্ব দিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় এক অনন্য নজির স্থাপন করল জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর। উপজেলার পাখি গ্রাম খ্যাত আসুরহাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল খেজুরের গুড় ও পাটালি জব্দ করা হয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি দৈনিক ভোরের ডাক-এর শৈলকুপা প্রতিনিধি এম হাসান মূসা তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভেজাল পাটালির ছবিসহ একটি তথ্যমূলক স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি দ্রুত জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) সাধন সরকার-এর নজরে আসে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসের পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরবেলাতেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর ইসলাম সাগর ও সঙ্গীও ফোর্স নিয়ে আসুরহাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন রাজশাহী থেকে আসা দুই গাছি পরিচালিত দুইটি অবৈধ গুড় ও পাটালি উৎপাদন কারখানায় হানা দেয় টিম। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর গাছিরা কৌশলে সটকে পড়ে।
অভিযানস্থলে গিয়ে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছিল কথিত 'খেজুরের গুড় ও পাটালি'। পরীক্ষায় উদ্ধারকৃত পাটালিতে পাওয়া গেছে মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান হাইড্রোজ পাটালিতে মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকারক এই রাসায়নিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও গুড় শক্ত করতে এবং রঙ উজ্জ্বল করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও সিমেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
খেজুরের রসের সাথে চিনি ও কৃত্রিম রঙ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল এই পাটালি।
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। জনস্বার্থে জব্দকৃত ভেজাল গুড় ও সরঞ্জামাদি ধ্বংস করার জব্দ করা হয়েছে।