
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) এক ক্যাম্পাস সাংবাদিকের পড়ে যাওয়া মানিব্যাগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আখিল আহমেদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দৈনিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস–এর মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি সুজন চন্দ্র দাশ গত ২৫ জানুয়ারি জননেতা আব্দুল মান্নান হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার মানিব্যাগটি পকেট থেকে পড়ে যায়। পরে মানিব্যাগটি খুঁজে না পেয়ে তিনি আশপাশের শিক্ষার্থীদের কাছে খোঁজ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আখিল আহমেদের কাছে মানিব্যাগটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি হল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে সেখানে দেখা যায়, মো. আখিল আহমেদ মেঝে থেকে মানিব্যাগটি তুলে নিচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা চাপ প্রয়োগ করলে তিনি মানিব্যাগটি ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “শেষমেশ চুরি অবশেষে ধরা পড়লো।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দিপু যৌথভাবে বলেন,ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনের একজন সহ-সভাপতিকে নিয়ে কিছু আপত্তিকর খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যদি এই ঘটনার সত্যতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে এর দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত। এ বিষয়ে সংগঠন তার সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যতীত অন্য কোনো কার্যকলাপের দায় নেবে না। তবে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে, দল অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রসায়ন দশম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে দিয়ে বলেন,সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আখিল আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঙ্গে রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ কোনোভাবেই দায়বদ্ধ নয়। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার ১০ম ব্যাচ গ্রহণ করবে না। অতএব, রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ব্যাচ থেকে প্রত্যাখ্যান করছে। ভবিষ্যতে তার দ্বারা সংঘটিত কোনো অনাকাঙিক্ষত বা অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ডের জন্য রসায়ন বিভাগের ১০ম ব্যাচ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আখিল আহমেদ বলেন,আমি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েছি পরে ভাইকে আর দেই নাই। একদিন পরে দিয়েছি।
উল্লেখ্য এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।