
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গত ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে। প্রচারণার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রচারণার ষষ্ঠ দিনে বিএনপি, জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন, ৯টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনতে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনের প্রচারণায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সারা দেশে প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভা ও মসজিদে নামাজে দোয়া চেয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রার্থিতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন নির্বাচনী জনসভায়। এ সময় প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ভোট প্রার্থনা করছেন। ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। শীর্ষ নেতারা সশরীরে জনসভা ও পথসভা করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। আলোচনা আছে-সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনেকে দৈনন্দিন কাজ ছেড়ে কিছু দিনের জন্য বিভিন্ন দলের প্রচারণায় নাম লিখিয়েছেন। এজন্য কিছুটা বাড়তি আয়ও করছেন কেউ কেউ। তবে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব জনসভায় যোগ দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে কিছু বিষয় নিয়ে সামান্য শঙ্কা থাকলেও কয়েক দিনে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শহর-বন্দর, গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, চায়ের দোকান, বাড়ির বৈঠকখানা-সর্বত্রই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রচারণার প্রথম ছয় দিনেই (মঙ্গলবার পর্যন্ত) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তত ১৭টি জনসভায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া একটি জনসভায় তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অন্যদিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ছয়দিনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ইতোমধ্যে ১৮টি নির্বাচনী জনসভা করেছেন।
গতকাল প্রচারণার ষষ্ঠদিনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, ঝিনাইদাহ-৪ আসনে রাশেদ খানসহ সারা দেশের ধানের শীষের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন। এদিন ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, খুলনা-৪ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা-১২ সাইফুল আলম খান মিলন, কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমসহ দেশজুড়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে ব্যাপক প্রচারণা চালান। এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাগেরহাট-৪ আসনে সাজন মিশ্রসহ দলটির প্রার্থীরা লাঙ্গলের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্রপ্রার্থীরাও। গতকাল বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেত্রী ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা-৯ আসনে তানসীম জারা, পটুয়াখালী-৪ আসনে হাসান মামুন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে গোবিন্দ প্রামাণিকসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বরিশালের সদর আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নিজ বাসভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্য লার্স প্রাগমান ও মায়া হুরলিমান। এ সময় তিনি ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি বেশ কয়েকটি উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
এদিকে গতকাল রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ কার্যক্রম চালান ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। এ সময় তিনি জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি উল্লেখ করেন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্যাস এবং রাস্তাঘাটসহ বহু সমস্যার সমাধানে তিনি উদ্যোগী হবেন। অন্যদিকে, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকালও তিনি গলাচিপায় একাধিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। এ সময় তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনে বিএনপির ২৮৮ জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন; জামায়াতের ২২৪ জন; জাতীয় পার্টির ১৯২ জন; গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন, বাম যুক্তফ্রন্টের ৬২ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী হয়েছেন। এর বাইরে ছোট ছোট দল জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।