আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সমানতালে বিরামহীন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। প্রচারনায় প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা উন্নয়ননের প্রতিশ্রুতি। সঙ্গে অঙ্গিকার করছেন দূর্নীতি চাঁদাবাজি নির্মূলের। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান নিজ নিজ দল ভোটে নির্বাচিত হলে কি কি উন্নয়ন করবেন তার ফিরিস্থি তুলে ধরছেন জনতার কাছে। সেই সঙ্গে দুই শীর্ষনেতাই প্রচারনায় জোর দিচ্ছেন দুর্নীতি-চাঁদাবাজি র্নিমুলের।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার মালিক হবে দেশের জনগণ। মা-বোনদের উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা দেশের উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার। আমরা আপনাদের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবো। এর আগে রবিবার সকালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর তিনি ফেনী ও কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে একাধিক জনসভায় অংশ নেন। জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজদের কোনও ছাড় নেই। জনসভায় গুলোতে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জনগণ পাশে থাকলে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যাতে দেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
এ ছাড়া বিএনপি নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। এটিই বিএনপির কমিটমেন্ট। তারেক রহমান বলেন, আমরা যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন, যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দুটো বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। কারণ, এই দুটো বিষয় (দুর্নীতি ও নিরাপত্তা) বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে।
এদিকে সোমবার কুষ্টিয়া,মেহেরপুর,চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন জামায়াতের আমির ডা:শফিকুর রহমান। এই সময় জামায়াত আমির বলেন, জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের কাজ দেব, যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়। এর আগে রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধূপখোলা মাঠ ও পুরান ঢাকায় পৃথক তিনটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রতিপক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশে এখন চাঁদাবাজি পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যারা এই পেশায় আছেন, ভালো পথে ফিরে আসুন, আমরা হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেবো। অন্যথায় আপনাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।
অপরদিকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি আমার এলাকাকে শেষ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। গতকাল শাহজাহানপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেছেন, গত ১৭ বছরে তার নির্বাচনী এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শেষ করে দিয়েছে । আমি কথা দিচ্ছি, আমার এলাকাকে এসব অপশক্তি থেকে মুক্ত করবো।
জেলায় জেলায় জনসভা করবে এনসিপি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে সারা দেশে ১০ দিনব্যাপী ‘নির্বাচনি পদযাত্রা’ শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি একদিকে তাদের নির্বাচনি প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রচারণা চালাচ্ছে, অন্যদিকে আসন্ন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে জনমত গঠন করছে। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির দফতর উপ-কমিটির সেক্রেটারি মো. তৌহিদ আহমেদ আশিকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। সোমবার সকালে চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে শহিদ কিশোর মো. ইশমামুল হকের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদযাত্রা শুরু হয়। এরপর সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মহানগরে পথসভা এবং বিকালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ও লক্ষ্মীপুরে পৃথক দুটি জনসভা করে দলটি।
এনসিপি’র এই বিশাল নির্বাচনি পদযাত্রা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলবে। কাল (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় জনসভা এবং সন্ধ্যা ৬টায় কুমিল্লা নগরীতে পথসভা করবে দলটি। পরদিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে জনসভা এবং বিকাল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসভা হবে। এরপর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মৌলভীবাজারে জনসভা এবং একই দিন বিকাল ৩টায় সিলেটে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নরসিংদীতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জনসভা, বিকালে ৩টায় ময়মনসিংহের ভালুকায় জনসভা এবং বিকাল ৫টায় ময়মনসিংহ মহানগরে পথসভা করবে এনসিপি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে ও একই দিন বিকাল ৩টায় সিরাজগঞ্জে জনসভা হবে।