জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলিয় নির্বাচনী ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে আল্লার কসম জনগণের সম্পদের উপরে হাত দেবনা।
ন্যয্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবো। এসময় দেশ পরিচালনার দায়ীত্বপ্রাপ্তদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবেনা। সম্পদ বৃদ্ধি হবে জনগণের। ৫ বছর পর নয়, প্রতি বছর দেশের সকল মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মেম্বর পর্যন্ত জনগনের কাছে হিসাব দিতে বাধ্য থাকবে। নিজেরা দির্ণীতি করবো না কাউকে করতেও দেবনা। দেশ থেকে সন্ত্রাস চাঁদবাজ উৎখাত করা হবে। ৫ আগষ্টের পর চাঁদাবাজ দখলবাজদের ভাল হবার সুযোগ ছিলো। তবে দেখা গেল তারা তা হয়নি। হঠাৎ করে কিছু লোক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হয়ে গেল। আমরা অভয় দিচ্ছি তাদের ভয় নেই। তারা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ছেড়ে হকের পথে থেকে কাজ করবে। তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তারা নিপিড়িত থাকবে না। নারীদের ইজ্জত রক্ষা করা আমাদের নৈতীক দায়ীত্ব হবে। ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সি বৃদ্ধদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হবে। যাদের সামর্থ্য থাকবে নিজেদের টাকায় চিকিৎসা করার তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাবো। আপনারা দেখেছেন ৫৪ বছর ধরে যারা ক্ষমতায় ছিলো তাদের দুর্ণিতি দুঃশাষন। ক্ষমতাবানরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না তারা দুর্ণিতি করেনি, ব্যাংক লুট করেনি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমাদের তিনজন মন্ত্রী ছিলো। তারা অত্যান্ত দক্ষতা ও সততার সাথে কাজ করেছে। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা দুর্ণিতি দেশ থেকে উৎখাত করবো। ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বির্ণিমাণ করবো। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্ততায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন,জামাত ক্ষমতায় গেলে বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ হবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। একই সাথে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আমিরে জামায়াত।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর ১ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মোঃ তাজ উদ্দিন খান। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হুসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা সহ ১১ দলিয় জোটের জেলা পর্যায়ের নেতৃবিন্দু। আমিরে জামায়াতের জনসভা কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই জনসভা স্থলে অবস্থান করছিলেন। কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভা মাঠ। হেলিকপ্টারযোগে দুপুর ১.২০ টার দিকে মঞ্চে আসেন জামায়াতের আমির। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।