ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চান্দুরা–আখাউড়া এবং মির্জাপুর–হরষপুর সড়ক সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ অনুমোদন দিলেও অধিকাংশ ঠিকাদার কাজ শুরু না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।
গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২৮ মার্চ ২০২৬ সময়সীমার মধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে এই সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয় মোট সাতজন ঠিকাদারকে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাত্র একজন ঠিকাদার তার অংশের কাজ সম্পন্ন করেছেন। বাকি ছয়জন ঠিকাদার এখনো কাজ শুরুই করেননি।
ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য। যেখানে আগে এক ঘণ্টায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন সময় লাগছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং পণ্যবাহী পরিবহনগুলো।
এই সড়ক দিয়েই ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের চান্দুরা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর, আখাউড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এবং চান্দুরা হয়ে বিজয়নগর থেকে জেলা শহরে যাতায়াত করা হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা যান চলাচলকে করেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীসহ প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সড়কটি সংস্কারের জন্য ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কাজ না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বারবার ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি খুব শিগগিরই কাজ শেষ হবে।”
এদিকে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।