সাধ থাকলে সাধ্য হয়, ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র বিমোচন সম্ভব। মানুষের ইচ্ছা শক্তি ও সাধ্যের বাইরে কিছুই না। পরনির্ভরতা ঘুচাতে নিজেকে একজন আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। যার উজ্জল দৃষ্টান্ত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মাছ চাষী মনিরুজ্জামান।
মনিরুজ্জামান ২ নং ইসলামপূর ইউনিয়নের ৩:নং ওয়ার্ডের কালীবাড়ি গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুস সালামের ছেলে। গ্রামের স্কুলে ৮ম পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এক সময় কোয়ারী করে পাথরের ব্যবসা করতেন তিনি। ২০২০ সালে কোয়ারী বন্ধ হওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান খোঁজতে থাকেন । এক বন্ধুর পরামর্শে মাছ চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। ছুটে যান উপজেলা মৎস্য অফিস। অফিসের কর্তাব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে প্রথমে ১ বিঘা জমির একটি পুকুরে মাছ চাষ করেন। প্রথমবারেই আসে তার সফলতা। খরচ বাদে লাভ হয় ৭০ হাজার টাকা। চলতি বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে মাছের চাষ করেছেন। তার পুকুরে রুই, গ্রাসকাপ,কার্প, ব্রিগেড, তেলাপিয়া সহ নানা প্রজাতির মাছ রয়েছে। প্রতিটি মাছ ১ থেকে দেড় কেজি ওজনের হয়েছে। এবছর খরচ বাদে তার দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। আগামীতে আরও বড় আকারে করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।
মনিরুজ্জামানের মাছ চাষ আত্মকর্ম সংস্থানে এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রেরনা যুগিয়েছে। অনেকেই তার পথ ধরে নিজে থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এভাবে প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে স্বনির্ভর হয়ে উঠা সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করেন।
এব্যাপারে মনিরুজ্জামান জানান,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহন করি। প্রথমে একটি পুকুরে মাছ করে লাভবান হওয়ায় আমার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এবছর তিনটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছি।আশা করছেন গেলবছর থেকে তিনগুন মুনাফা অর্জন করবেন। তিনি অন্যান্য বেকার যুবকদের তার মত মাছ চাষে এগিয়ে আসার আহবান জানান ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস শাকুর বলেন, মনিরুজ্জামান একজন সফল মাছ চাষি। তিনি অল্পদিনের মধ্যে মাছ চাষ করে বেকার যুবকদের মাছ চাষে আগ্রহী করে তুলেছেন। এটা একটা ভাল দিক। তার মাছ চাষে যেমনি দেশের মাছের ঘাটতি পূরন হচ্ছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।মনিরুজ্জামানের মৎস্য খামারটি প্লান মাফিক পরিচালনা করলে আরও বেশি ভাল করবেন বলে তিনি একথা জানান।