ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় দুইদলের দুইজন প্রার্থী। একজন হচ্ছে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন, অন্যজন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান। তারা পৃথক পৃথক নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।
ফলে দশ দলের জন্য এআসনটি একটি অশনি সংকেত বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে এখানে বিএনপি'র পরপরই জামাতের অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
গত ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটারদের ধারণা ছিল ১০ দলের থেকে একজন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিবেন।শেষ পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড় দেননি, যার যার দল থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে এ আশনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে তারা একলা চলো নীতি নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। বড় চ্যালেঞ্জিং এর মধ্যে পড়তে হবে, এমন ধারণা সাধারণের।
ফলে বিএনপির জন্য একটি বড় সুযোগ, সেই সুযোগে বিএনপি'র ভোটের রাস্তা অনেকটাই শুগমের পথে।
১০ দলের থেকে যদি একজন প্রার্থী হত তাহলে বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত এমন মন্তব্য অনেকের ।
গতকাল ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর যখন ১০ দলের দুই প্রার্থীর মধ্যে বরফ গলেনি তখন সাধারণ ভোটাররা অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছেন এমনই শোনা যাচ্ছে।
এমনিতেই বিএনপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জামাতে ইসলামির অবস্থান এ আসনের দুর্বল তারপরেও ইসলামী দশ দলের দুজন প্রার্থী মাঠে থাকায় ১০ দলের সমর্থকদের মন ভেঙ্গে পড়েছে।
বিএনপি'র পক্ষ থেকে একক প্রার্থী আবার হেভিওয়েট প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল থাকায় তারা সুবিধা জনক স্থানে রয়েছেন।
এ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবারে শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতে কয়েক হাজার আওয়ামী লীগের ও যুবলীগের নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকরা যোগ দেওয়াতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
বর্তমানে বিএনপি'র একটি শক্তঘাঁটিতে স্থান করে নিয়েছেন, যা একমাত্র বাবুলই পেরেছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে বেশ কিছু সমর্থক জামাত ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে গোপনে সমর্থন দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোট যে যত কামাই করে নিতে পারবে তারাই আসনটি লুফে নিতে পারবে।
এদিকে ১০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে ইসলামী আন্দোলন তারাও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তবে তাদের প্রচার প্রচারণা তেমন ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা একক ভাবে তেমন কোন সুবিধা করতে পারবেন না বলে ভোটাররা জানিয়েছেন, তাদের ভক্ত বৃন্দ একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন জোট থেকে বেরিয়ে বিজয়ের বিষয়ে। তারা একমাত্র পীর সাহেবের সিদ্ধান্তের উপরেই রয়েছেন তারা একলা নীতি গ্রহণ করে ঢিলেঢালা অবস্থানে রয়েছেন। ইসলামী ১১ দলীয় জোট থাকলে বিএনপি'র জন্য বিশাল একটি প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতো।
এবার তা আর থাকলো না বিএনপি'র জন্য একটি বিশেষ সুবিধা ।
এ বিষয়ে একজন সাধারণ ভোটার রুবেল মাতুব্বর জানান, ১০ দলীয় জোটের দুইজন প্রার্থী থাকায় বিজয়ের মুখ আর দেখতে পাবে না, তাদের জন্য এবারের নতুন বাংলাদেশের এক সিট নিশ্চিত হারানোর সম্ভাবনা।
অন্যদিকে আরেকজন ভোটার তিনি জানিয়েছেন, ১০ দলীয় জোট ভাঙ্গার কারণে বিএনপি'র পথে আর কাটা রইল না, তাদের বিজয় সময়ের ব্যাপার যেহেতু মাঠে আওয়ামীলীগ নেই।
এ বিষয়ে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জামাত ইসলামির প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন বলেন, আমি একবার বিপুল ভোটে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলাম, সেদিকে আমার একটা বিশাল পরিচিতি রয়েছে, তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন জানিয়েছে, আশা করি জোট থেকে উন্মুক্ত রাখায় আমার বিজয়ের বিষয়ে কোন সমস্যা হবে না, এবার মানুষ ইসলামী দলকে ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে, ইনশাআল্লাহ বিজয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান জানান, যদিও বিএনপি, জামাত বড় দল কিন্তু ফরিদপুর-৪ আসনে আমরা একই রকম, আমি জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মাঠে রয়েছি এ আসনের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে আমার পদচারণার রয়েছে, দেড় বছর যাবত প্রতিটি মাহফিলে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আমার হয়েছে, সকল প্রকার সহযোগিতায় করতে পেরেছি, যার ফলে একটি ব্যাপক ছাড়া পেয়েছি, ১১দলীয় জোট থাকলে বিজয় কেউ ঠেকাতে পারতো না, তারপরেও নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবো তকদিরে যা থাকে তাই মেনে নেব।
তিনি আরো আক্ষেপ করে বলেন, সারা বাংলাদেশে জোটের সমঝোতা হয়েছে কিন্তু আমাদের এখানে কেন উন্মুক্ত করে দিয়ে আমাদের এই সমঝোতাকে ভূলুণ্ঠিত করল? কি দরকার ছিল এমন সমঝোতার? যদিও জামাত আমার এখানে আমার থেকে অনেক ভোট কম পাবে তারপরেও বিজয়ের ব্যাপারে পথের কাটা। দলের এমন সিদ্ধান্তে
অনেক বেগ পেতে হবে।