হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলায় ধান,গম,সরিষাসহ নানাবিধ ফসলের পাশাপাশি ফলমূলের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা।তাঁরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর পরামর্শ ও সহযোগিতায় একক ফলবাগান ও মিশ্র ফুলবাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।অনেক উদ্যমী কৃষক নিজেরা স্বউদ্যোগেও ফলবাগানের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এদের একজন হলেন উপজেলার করাব ইউনিয়ন এর সিংহগ্রামের উদ্যমী কৃষক মোহাম্মদ কাজল মিয়া।
তিনি অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বিগত ২ বছর পূর্বে তার নিজস্ব ২৫ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির উন্নত জাতের আম আবাদের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি সেই জমিতে কাঠিমন,বারিফুল, হিমসাগর, লেংড়া,রুপালি সহ বিভিন্ন জাতের চারা রোপন করেন। নিয়মিত পরিচর্যা,বালাই নাশক,সেচ দিয়ে আসছেন। বর্তমানে এ আমগাছগুলোতে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে দেশী প্রজাতির আমের মুকুল না আসলেও উন্নত জাতের এ আমগাছে আগাম মুকুল আসায় কৃষক মোহাম্মদ কাজল মিয়া বেজায় খুশি।
এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি জানান, আমি ব্যবসা ও কৃষি কাজ করে আসছিলাম দীর্ঘদিন যাবত। বছর ২ /৩ পূর্বে ইউটিউবে আমের বাগানের বিষয়টি জানতে পেরে আমি আমার জমিতে আমের বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই এবং উন্নত জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে বাগান করার কাজ শুরু করি।বর্তমানে আমার বাগানের বেশির ভাগ গাছেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশাবাদী ফলন ভালো হবে। এছাড়াও আমি উচ্চ মূল্যের ফসল এলাচ ও কলা আবাদের লক্ষ্যে জমি তৈরি করছি। এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর পরামর্শে এলাচ আবাদের লক্ষ্য পুরনে কাজ করব।
এ বিষয়ে করাব ইউনিয়ন দায়িত্বে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন এমন আগ্রহী কৃষকদের আমরা নানাভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি।কাজল মিয়া যেহেতু এলাচ ও কলার আবাদ করতে আগ্রহী। আমরা আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর মাধ্যমে সকল প্রকার সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ শাহাদুল ইসলাম বলেন লাখাই উপজেলা হাওর বেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় ধান,সরিষা সহ শাকসবজি আবাদের অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তবে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফলমূলের আবাদ বৃদ্ধিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে একজন কৃষক নিজের উদ্যোগে এমন উন্নত জাতের আমের বাগান সৃজন করা খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা এ কৃষককে সার্বিক সহযোগিতা করব।