হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বালিচাপড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকার নিয়মিত ডিউটি না করায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যের ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে কমিউনিটি ক্লিনিকের আশপাশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানোর দৃশ্য স্থানীয় কয়েকজনের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) নজরে এলে এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালিচাপড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেপি রাণী পাল নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিনামূল্যের ওষুধ পাচ্ছেন না। ফলে হতদরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়াও আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের মাঝে সময়মতো সরকারি ওষুধ বিতরণ না করায় দীর্ঘদিন ফেলে রাখার ফলে সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এসব ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে।
জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের বালিচাপড়া কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে আশপাশের চার থেকে পাঁচটি গ্রামের শতশত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিনামূল্যের ওষুধ গ্রহণ করতেন। তবে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব সরকারি সেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ওষুধ বিতরণ না করায় রোগীদের হাতে ওষুধ পৌঁছাচ্ছে না, যা দায়িত্বে চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ভুক্তভোগীরা।
বালিচাপড়া গ্রামের মনুয়ারা বেগম বলেন, “নির্ধারিত দিনে ও সময়ে ক্লিনিকে এসে অনেক সময় সিএইচসিপিকে পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়।”
একই গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, “গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দায়িত্বহীনতার কারণে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে সিএইচসিপি হেপি রাণী পালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন,
“বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকলে কমিউনিটি ক্লিনিকের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের অবহিত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”