শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুলের বাজার

শার্শা সংবাদদাতা

যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুল (বরুই) এর বাজার। কুল ও আম মৌসুমে মুখরিত হয়ে

2026-01-18T15:14:20+00:00
2026-01-18T15:43:33+00:00
  বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
১১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুলের বাজার
কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার আশা চাষীদের
শার্শা সংবাদদাতা
রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম  আপডেট: ১৮.০১.২০২৬ ৩:৪৩ পিএম

যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুল (বরুই) এর বাজার। কুল ও আম মৌসুমে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সব আড়তগুলো। প্রতিদিন এখান থেকে ছোট বড় প্রায় ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হচ্ছে। 

যশোর- সাতক্ষীরা দু'জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও কলারোয়া জিরো পয়েন্ট বেলতলা নামক স্থানে এ বাজারটি অবস্থিত। এবছর বাজারে থাইআপেল কুল ১২০/১৩০ টাকা, বলসুন্দরী কুল ১০০/১২০ টাকা, নারকেল কুল ৮০/৯০ টাকা, চায়না কুল ১২০ এবং টককুল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কুলচাষি মোশারাফ হোসেন জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে কুলচাষ করছেন। এবছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেন। গত বছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছিলেন। গত বছরের থেকে এ বছর তার অনেক বেশি কুল হয়েছে এবং দামও ভলো পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, যদি এভাবে শেষ পর্যন্ত কুল বিক্রি করতে পারেন তাহলে অনেক লাভবান হবেন। 

ঢাকা থেকে কুল কিনতে আসা বেপারী মাহাতাব, দেলোয়ার ও বশির জানান, তারা দীর্ঘদিন কুল, আম, পিঁয়ারা তরমুজসহ সিজেনারি বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করেন। যে কারণে শীত মৌসুমে বেলতলা ফল মুকামে আসেন। এবছর কুলের দাম অনেক বেশি, যার কারণে লাভের পরিমাণ কম, তারপরও আমরা যেমন বেশি দামে কুল কিনছি, ঠিক তেমনই বেশি দামে বিক্রি করছি। এবছর বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কুল কিনে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন বলে তারা জানান। সিলেট থেকে আসা বেপারী শহিদ জানান, এই অঞ্চলের ফলের স্বাদ ভালো, ক্রেতারাও বেশিবেশি খায়। যে কারণে প্রতিবছর এই মুকাম থেকে কুলসহ বিভিন্ন ফল কিনতে আসি, ব্যবসায় লাভ-লস দুটোই হয়।

বেলতলা বাজারের স্থানীয় আড়তদার আবুল কালাম, রফিক, শাহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর কুলের ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে কুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় ব্যবসা ভালো এবং চাষিরাও খুশি। বেলতলা বাজারে চাষিরা সঠিক ওজন এবং সঠিক মূল্যে কুল বিক্রি করতে পারেন। তাই তারা নিঃসন্দেহে এ বাজারে ফুল বিক্রি করতে আসেন। এ বাজারে প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত কুল বেচাকেনা চলে জানান আড়তদাররা।

বেলতলা বাজার কমিটির সহ-সভাপতি এরশাদ গাজী জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য বাজারে সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে অনেক কুল আমদানি হচ্ছে, বেপারীও বেশি এসেছে। এভাবে যদি আরও ২/৩ বছর যায় তিনি আশাবাদী বেলতলা ফলের মুকাম দেশের দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিখ্যাত ফল বাজার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করবে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি (কর্মকর্তা) দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে ১৪৮ হেক্টর জমিতে ৫১০ জনের মত চাষি ফুল চাষ করেছেন। এবছর থাইআপেল, বলসুন্দরী, চায়না, টকমিষ্টি কুলগুলোই চাষিরা বেশি চাষ করেছেন এবং লাভবানও হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ হওয়াতে দিনে দিনে অন্য কৃষকরা কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামী বছরও এই লাভজনক ফল কুল বেশিবেশি চাষ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: