যমুনা নদীর ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। দীর্ঘদিন নদীর অংশে খনন-ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকট। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এ অবস্থায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বেশ কয়েকটি নৌঘাট প্রায় দেড় মাস আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকা না থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে আছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বালুপথে কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ায় লোকসান গুনছেন কৃষকেরা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ কৃষিপণ্য কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন গন্তব্যে। দীর্ঘ বালুপথে হিমশিম খাচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। চরাঞ্চলের কৃষকের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। কৃষি জমিতে পানি উত্তোলন করা যাচ্ছে না।
- ভোগান্তিতে চরাঞ্চলের মানুষ।
- ড্রেজিং না করায় নাব্যতা সংকট।
- বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙন শঙ্কা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে তেকানী চুকাইনগর-জামালপুর নৌরুট বন্ধ হওয়ার পথে। পাকুল্লা ইউনিয়নের আমতলী, মির্জাপুর, পূর্ব সুজাইতপুর খেয়াঘাটসহ বেশ কয়েকটি নৌঘাট বন্ধ রয়েছে। চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ঘোড়ার গাড়িতে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে নৌকার চেয়ে তিনগুণ ভাড়া। অনেকে কৃষিপণ্য ও পশুখাদ্য কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ঘোড়ার গাড়িতে বেশি ভাড়ার কারণে কৃষিপণ্যে লোকসান গুনছেন কৃষকেরা। চরের দীর্ঘ বালুময় পথ হেঁটেই অতিক্রম করছে শিক্ষার্থীরা। নদীতে আগের মত মাছ নেই, পেশা বদলাচ্ছেন জেলেরা।
স্থানীয়রা জানান, সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর অংশে দীর্ঘদিন ড্রেজিং করা হয়নি। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। কৃষি জমিতে পানি সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ডুবোচরে নৌকা আটকে যাওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। নতুন নতুন চর জেগে ওঠায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল লতিফ ও বেলাল হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যমুনা নদীতে বালু নেমে আসে। প্রতিবছর নদীর মাঝে তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় যমুনার পানি ফুলে ফেঁপে উঠে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়। এবারও শঙ্কা রয়েছে। নদীতে পানি নেই, বালুপথে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। কৃষিপণ্য পরিবহনে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। আবাদি জমিতে পানি সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, নদীতে আগের মত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা পেশা বদলে অন্য পেশায় যাচ্ছেন। এখন যেভাবে নদীর পানি কমছে, তাতে নৌকা চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে, জানিয়েছেন মাঝিরা।
আমতলী ও মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা নৌকাযোগে স্কুল-কলেজে যায়। শুষ্ক মৌসুমে চরের দীর্ঘ বালুময় পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। ভোগান্তির কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে চায় না। তারা জানান, নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সহজেই দু’কূল ছেপে বন্যা আসে। ভাঙে আবাদি জমি, ঘর-বাড়ি। নিঃস্ব হয় শত শত পরিবার।
সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, নদী ভাঙনরোধ ও নাব্যতা সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। দীর্ঘদিন নদীতে ড্রেজিং করা হয়নি। ড্রেজিং করা হলে চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।