লাখাইয়ে মাটি খেখোরা বেপরোয়া, কৃষি পরিবেশে ও জনজীবন হুমকিতে

লাখাই (হবিগঞ্জ) হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার কৃষি জমির টপ সয়েল,সরকারি খাল,নালা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির মহোৎসব চলছে। কৃষিজমি শুধু খাদ্য

2026-01-17T13:45:45+00:00
2026-01-17T13:45:45+00:00
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
লাখাইয়ে মাটি খেখোরা বেপরোয়া, কৃষি পরিবেশে ও জনজীবন হুমকিতে
লাখাই (হবিগঞ্জ) হবিগঞ্জ
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
 হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার  কৃষি জমির টপ সয়েল,সরকারি খাল,নালা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির মহোৎসব চলছে। কৃষিজমি শুধু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র নয় এটি একটি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অথচ লাখাইয়ে প্রতি বছর শীত মৌসুম শুরু হলেই সক্রিয় হয়ে উঠে মাটি লুটেরাচক্র লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রতিদিনই কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে বিক্রি করছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী সন্ধার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এক্সেভেটর দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটা হচ্ছে। পরে ট্রাক্টর ও ট্রাক যোগে সেই মাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছে তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মাটি ইট ভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  একশ্রেণির অবৈধ মাটি উত্তোলনকারী ও মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত সরকারি খাল, নালা, ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর, ফসলী জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে উপজেলা ও উপজেলার বাহিরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন।এ সংঘবদ্ধ মাটি খেখোরা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন রামরাজত্ব কায়েম করে আসলেও সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে এবং জন অসন্তোষ চলছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপজেলার করাব, মোড়াকরি, বামৈ,মুড়িয়াউক ও বুল্লা ইউনিয়নের মাঠে ফসলী জমির টপ সয়েল কেটে তা বিক্রির মহোৎসব চলছে। একশ্রেণির ভূমি মালিক সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় তাদের জমির টপ সয়েল  আবার কেউবা মাছ চাষের জন্য কৃষি জমিতে পুকুর সৃজন করার মানষে নামমাত্র মুল্যে মূল্যবান কৃষি জমির মাটি বিক্রি করছেন। আর এ সুযোগে মাটি খেঁখোদের পোয়াবারো। তারা এ মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে আঙুল ফোলে কলা হচ্ছে। এদিকে একজন কৃষকের জমির মাটি বিক্রির ফলে পার্শবর্তী জমিতে পড়ছে এর ক্ষতিকর প্রভাব। অবস্থা এমন দাড়িয়েছে এক জমির মাটি  উত্তোলনের ফলে চারটি জমিতে ফসল উৎপাদন হুমকিতে। 

উপজেলা জুড়ে এক্সেভেটর ,ড্রেজার মেশিনের সাহায্য উত্তোলন করা মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সরকারি খাল, কৃষি জমি,জলাশয়। এতে সরকারি ভূমি হচ্ছে বেদখল, খাল,নালা বন্ধের ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে আশংকা বাড়াচ্ছে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির।

বিগত দিনপনের যাবত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশকয়েকটি  অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড করে কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী ও পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকচালক কে।এতে মাটি ব্যবসায়ীরা আরোও বেপরোয়া হয়ে রাত দিন সমানতালে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন জোরদার করে চলেছেন।নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রশাসনের পক্ষে অর্থদন্ড দিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরে রাখতে পারছেন না। 

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে  উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দিনরাত মাটি উত্তোলন ও পরিবহন চলছে। এতে কৃষি জমির ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে জনপদের সকল সড়ক ও মহাসড়ক। মাটি ব্যবসায়ীরা আঞ্চলিক মহাসড়ক  ও আন্তঃইউনিয়ন সড়কের স্থানে স্থানে তাঁরা তাদের নিজেদের মতো সড়ক কেটে ডাইভারসন সৃষ্টি করে মাটি পরিবহনের কাজ চালাচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের মারাত্মক ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি সড়কে চলাচল কারীদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ। সড়কে চলাচল করতে পথচারী,যানবাহনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আতংকে পথ চলতে হচ্ছে জনসাধারণ । কখন যন্ত্র দানবের মতো ট্রাক্টর গুলো গায়ের উপর আঘাত করে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দিন দিন ফোঁসে উঠছেন। উষ্ণ  প্রকাশ করে বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আজাদ হোসেন ফুরুক  সিংহগ্রামের  আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, পূর্ব সিংহগ্রাম এর জুবায়ের আহমেদ, ভাদিকারা গ্রামের বর্তমান মেম্বার কেএম জিয়াসহ কয়েকজন এর সাথে আলাপকালে জানান আমাদের রাস্তা ঘাট ভেঙে ফেলছে এ মাটিবাহী ট্রাক্টর গুলো, সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাচ্ছে। আমাদের যাদের বাড়ি ঘর সড়ক লাগোয়া তারা রাতে ঘুমাতে পারছিনা।কখন যন্ত্র দানব গুলো আমাদের বাড়ি ঘর উঠে আসে।এ ছাড়াও ফসলী জমির ক্ষতি সাধনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। তারা আরোও বলেন মাটি ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সংগঠন নেতাকর্মী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ কোন প্রতিবাদ করতে পারছেন না। আজাদ হোসেন ফুরুক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন এসব কর্মকাণ্ডের প্রতি স্থানীয় প্রশাসন এ মূহুর্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে    ফসলি জমির বারোটা বেজে যাবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, জনবল সংকট তাই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অচিরেই জেলা থেকে একজন সহকারী কমিশনার এনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 



Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: