আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে ৪২ বিজিবি।
রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ ও কাহারোল), দিনাজপুর-২ (বিরল ও বোচাগঞ্জ), দিনাজপুর-৩ (দিনাজপুর সদর) এবং দিনাজপুর-৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) আসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ৪২ বিজিবি। এর মধ্যে ৩১ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ছয়টি পর্বে নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ৩০ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দুইটি পর্বে সতেজকরণ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পরিস্থিতিগত প্রশিক্ষণ অনুশীলন (এসটিএক্স) চলমান রয়েছে। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি রায়োট কন্ট্রোল মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এছাড়াও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে হালনাগাদ ভোটার তালিকা, প্রার্থীদের তালিকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ৫০৪টি ভোটকেন্দ্র রেকি সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতটি বেস ক্যাম্প স্থাপনের স্থান নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানায় বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। সকল ভোটার যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।