আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ইতিমধ্যেই সোসাল মিডিয়াসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ব্যালট নিয়ে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। ব্যালট পেপারে বিএনপির অবস্থান নিয়ে অসন্তোস দলটির নেতৃবৃন্দ। তবে প্রবাসীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে হারাতেই এই চক্রান্ত।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি একটি বাসায় একাধিক ব্যক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট গণনা করছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, খামের ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা এই কাজে জড়িত।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে বসে পোস্টাল ব্যালট গুনছেন। একজনকে ভিডিও ধারণে বাধা দিতে শোনা গেছে। ওই তিনি বলেন,‘ভিডিও করা যাবে না এবং ফেসবুকে ছড়ানো যাবে না।’ আরেকজনকে বলতে শোনা গেছে, ‘এতে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ওই ভিডিও যাচাই করে দেখা গেছে সেটি এআই দিয়ে তৈরি নয়।
বাহরাইনে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট হাতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ ইসিকে জানিয়েছে বিএনপি।বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান ভোরের ডাককে বলেন, এখানে বর্ণমালা অনুসারে ব্যালট সাজানো হয়নি। বিশেষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম আগে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে হয় ইচ্ছে করেই এমনটাই করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই পোস্টাল ব্যালটের মতো দেশের ব্যালটেও একইভাবে প্রতীক ব্যবহার করা না হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইনে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের হাতে পোস্টাল ব্যালট থাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ইসিও নাকি বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং স্থানীয় দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, যাঁরা ব্যালট নিয়ে কারচুপির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির ভোরের ডাক’কে বলেন, এটা বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পি ষড়যন্ত্রের অংশ। একটি ব্যালট পেপারে ১৪টি প্রতীক রয়েছে। সেটা ভাজ করলে মাঝখানে বরাবর ভাজ পরবে। আর ঠিক মাঝখানেই ডান দিকে ভাঁজ রবাবর ধানের শীষের প্রতীক। এখানে সীল বা টিপসই দেয়ার পর এটা ভজ করলে আশপাশের মার্কাতে কালি লেগে ভোটটি বাতিলও হতে পারে। কিসের ভিত্তিতে এই ক্রম করা হয়েছে সেটা আসলে আমাদের বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রিপন বলেন, ধানের শীষে সিল দেয়ার পর উপরে আছে দোলনা আর নিচে আছে নোঙর। স্বাভাবিক ভাবেই ওই দুটি প্রতীকে রঙ লেগে ব্যালট বাতিল হতে পারে। আমি মনে করে এটা অনাকাঙ্খিত নয়। পুরোপুরি ষড়যন্ত্র।
নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীদের পাশাপাশি এবারই প্রথম প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নিবন্ধনের পর তাঁদের জন্য ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে ভোটারদের ঠিকানায় পাঠিয়েছে ইসি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে তাঁদের সিল মেরে এই ব্যালট ডাকযোগে ফেরত পাঠাতে হবে।